বন্ধুত্বের টানে হাজার মাইল পাড়ি, হেলিকপ্টারে কালীগঞ্জে সৌদি অতিথি
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Monday, 1 June, 2026, 11:59 AM
বন্ধুত্বের টানে হাজার মাইল পাড়ি, হেলিকপ্টারে কালীগঞ্জে সৌদি অতিথি
বন্ধুত্ব যে ভাষা, দেশ কিংবা সংস্কৃতির সীমারেখা মানে না, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছেন সৌদি নাগরিক আব্দুর রহমান মোবারক আল ইয়ামি। হাজার মাইল দূরের সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি বন্ধু ইসমাঈল হোসেনের আমন্ত্রণে সাত দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে তিনি যেন খুঁজে পেয়েছেন আরেকটি পরিবার, আরেকটি আপন ঠিকানা।
শনিবার (৩০ মে) সকালে গাজীপুরের কালীগঞ্জে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন আব্দুর রহমান। তাঁর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসুক মানুষের ঢল নামে। গ্রামবাংলার মানুষের কাছে হেলিকপ্টারে বিদেশি অতিথির আগমন ছিল বিরল এক দৃশ্য। তবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না শুধু আকাশযান, ছিল দুই দেশের দুই বন্ধুর গভীর বন্ধুত্বের গল্পও।
সফরকালে তিনি মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শেখ, জামালপুর ইউনিয়নের আশাদুল্লাহ এবং বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের নুর ইসলামের বাড়ি পরিদর্শন করেন। প্রতিটি বাড়িতেই তাকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুলেল শুভেচ্ছা, তোরণ নির্মাণ এবং আন্তরিক অভ্যর্থনায় অতিথিকে বরণ করে নেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
বন্ধুত্বের টানে হাজার মাইল পাড়ি, হেলিকপ্টারে কালীগঞ্জে সৌদি অতিথি
বাংলার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হন সৌদি অতিথি। ডাবের পানি, কলা, আপেল, কমলা, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও তালের শাঁসসহ নানা মৌসুমি ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় তাকে। তবে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেন দেশীয় রান্নার বাহারি আয়োজন। টেংরা, শিং, কৈ, মলা, পুঁটি ও চিংড়ি মাছের পাশাপাশি দেশি মুরগি, খাসি ও গরুর মাংসের সমারোহে সাজানো মধ্যাহ্নভোজ ছিল তাঁর জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা।
খাবারের পর অপেক্ষা করছিল আরও একটি ব্যতিক্রমী মুহূর্ত। বাড়ির পাশের লিচুবাগানে গিয়ে নিজ হাতে গাছ থেকে লিচু পেড়ে খাওয়ার আনন্দে যেন উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তিনি। প্রকৃতির কাছাকাছি সেই সময়গুলো তাঁকে মুগ্ধ করে।
আব্দুর রহমান মোবারক আল ইয়ামি বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে আগে কিছুটা ধারণা ছিল। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম, দেশটি আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। এখানকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। বন্ধুর বাড়িতে এসে কখনো মনে হয়নি আমি বিদেশে আছি। মনে হয়েছে আমি নিজের পরিবারের মাঝেই আছি। সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশে আসতে চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা বরুজ শেখ বলেন, “আমার দুই ছেলে ও মেয়ের জামাই সৌদি আরবে থাকেন। আমাদের বাড়িতে সৌদি আরব থেকে একজন অতিথি এসেছেন, এটা আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।”
সফরের অংশ হিসেবে কালীগঞ্জে একটি মাদকবিরোধী ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবেও অংশ নেন তিনি। এরপর কুমিল্লা ও সিলেটে আরও কয়েকজন বন্ধুর বাড়ি সফর শেষে আবার কালীগঞ্জে ফিরে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এই সফর শুধু একজন বিদেশি অতিথির বাংলাদেশ ভ্রমণ নয়; বরং এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার এক অনন্য সেতুবন্ধনের গল্প বলছেন স্থানীয়রা।