|
রাজধানীতে কসাইয়ের রেট নিয়ে ভোগান্তি, নির্ধারণ করবে কে
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রাজধানীতে কসাইয়ের রেট নিয়ে ভোগান্তি, নির্ধারণ করবে কে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান। প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে এখনও গরু কেনেননি, রাখার জায়গা সংকটে কিনবেন শেষ সময়ে। কিন্তু গরুর মাংস কাটাকাটির জন্য কসাই ঠিক করে ফেলেছেন তিনি। গরুর দামের প্রতি হাজারে ১৫০ টাকা করে দিতে হবে কসাইকে। গতবছরও এই দরে কসাই ঠিক করেছিলেন বলে জানান তিনি। আতিকুর রহমান বলেন, কোরবানির সময় কসাই ঠিক করাই এক ধরনের ঝামেলার কাজ। গরু কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর কোনো নির্ধারিত মূল্য নেই। যে যার মতো দর হাঁকান। রাজধানীর নিয়মিত কসাইরা আরও বেশি নেন, বাইরে থেকে আসা কসাইরা তুলনামূলক কম রাখেন। তিনি জানান, তার চুক্তি করা কসাইরা আসবেন চুয়াডাঙ্গা থেকে। কয়েক বছর ধরে তারাই এই এলাকায় গরু কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর কাজ করছেন। আতিকুর রহমানের ভাষ্য, রাজধানীতে যেহেতু হাজার হাজার পশু কোরবানি হয়, তাই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। রাজধানীর প্রায় সব এলাকার কোরবানিদাতারাই একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। শুধু বাড্ডার আতিকুর নয়, এই সমস্যায় পড়েন রাজধানীর অধিকাংশ কোরবানিদাতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ এলেই নগর ছেড়ে গ্রামে ছুটে যান অধিকাংশ মানুষ। তবে ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে অনেকেই বিভিন্ন কারণে গ্রামে যেতে পারেন না; এই সংখ্যাটিও কম নয়। বিশেষ করে ঈদুল আজহায় ঢাকায় পশু কোরবানির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। রাজধানীতে এলাকাভেদে কোরবানির পশুর মাংস কাটার জন্য কসাইয়ের ভিন্ন ভিন্ন রেট পাওয়া গেছে। বাড্ডার আনন্দনগর এলাকায় কসাইদের দর প্রতি হাজারে ১৫০ টাকা হলেও পাশের গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা ও ধানমন্ডি এলাকায় তা ২০০ টাকা। বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকাতেও দর ১৫০ টাকা। অর্থাৎ কেউ যদি দেড় লাখ টাকার গরু কেনেন, তাহলে প্রতি হাজারে ২০০ টাকা হিসাবে কসাইয়ের খরচ হবে ৩০ হাজার টাকা। আর ১৫০ টাকা হলে খরচ পড়বে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এ নিয়ে রাজধানীতে কোরবানি দেবেন, এমন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের অধিকাংশেরই ভাষ্য, এই রেট তুলনামূলক অনেক বেশি। বছরের একটা দিন ঈদ উৎসব বলে লোকজনও এটি নিয়ে কোনো কথা বলে না। কিন্তু এটির একটি যৌক্তিক নিয়ম করা উচিৎ। দেড় লাখ টাকার গরুতে কাটা বাবদই যদি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়, এটি বাড়তি চাপ হয়ে যায়। রাজধানীর বনশ্রীর জি ব্লকের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, বাসায় গরু কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর মতো লোক নেই। তাই কসাই ঠিক করতেই হয়। এখনো গরু না কিনলেও কসাই ঠিক করে ফেলেছেন। মেরাদিয়া হাটের এক মাংস বিক্রেতা কসাইকে ঠিক করেছেন, যিনি প্রতি হাজারে ২০০ টাকা নেবেন। আলী হোসেন বলেন, কোরবানি মাংস কাটার জন্য আসলে নির্ধারিত মূল্য থাকা উচিত। সামর্থ্যবানদের কথা আলাদা। কিন্তু কোরবানি, হাসিল ও কসাইয়ের বিল মিলিয়ে অনেকেই বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েন। একই এলাকার সেলিম আহমেদ বলেন, রাজধানীর কসাইরা সবসময় বেশি নেন। বাইরে থেকে আসা কসাইরা তুলনামূলক কম রাখেন। তিনি আরও জানালেন, অনেক এলাকায় সমিতির মাধ্যমেও কোরবানি হয়। কোথাও ১০টি, কোথাও ২০টি বা তারও বেশি পশু একসঙ্গে কোরবানি দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে প্রতি হাজার হিসেবে নয়, গরুপ্রতি দর নির্ধারণ করা হয়। একেকটি গরুর জন্য সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কোথাও কোথাও তা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকাও হয়ে থাকে। এদিকে বনশ্রীর জি ব্লকে কয়েকজন পেশাদার কসাইয়ের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। মোস্তফা নামের এক কসাই বলেন, প্রতি হাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা—এটাই তাদের নির্ধারিত দর। তারা নিজেরাই এই দর ঠিক করেছেন। তিনি বলেন, কোরবানির সময় সবাই তো মাংস খায়। ওই সময় আমাদের নিয়মিত ব্যবসা থাকে না। এক মাসের বেশি সময় বসে থাকতে হয়। এই সময় আয় না করলে খাব কী? মোস্তফা বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি সাতটি গরুর কাজের চুক্তি পেয়েছেন। সবগুলোতেই প্রতি হাজারে ২০০ টাকা দর। তারা পাঁচজন মিলে কাজ করেন। প্রত্যেকে আবার তিন থেকে চারজন শ্রমিক নেন। শ্রমিকদের বিল দেওয়ার পরও জনপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা থাকে। ইসাহাক নামের আরেক কসাই বলেন, কোরবানির ঈদে তিনি ৮ থেকে ১০টি গরুর কাজ করেন। শ্রমিকদের বিল দেওয়ার পরও ভালো আয় থাকে। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা থাকে। সরকার নির্ধারিত দর বেঁধে দিলে ভালো হবে বলেও মনে করেন তিনিও। তাঁর ভাষায়, তাহলে সবাই এক দরেই কাজ পাবে। কোথাও কম, কোথাও বেশি হবে না। আমরাও চাই সরকার এটা নির্ধারণ করে দিক। রাজধানীবাসীর দাবি, গরু কেনার পর যেমন হাসিলের নির্ধারিত হার থাকে, তেমনি কোরবানির পশু কাটার ক্ষেত্রেও কসাইদের জন্য নির্ধারিত মূল্য থাকা উচিত। এতে ক্রেতা ও কসাই; উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
