ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২২ মে ২০২৬ ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ভারতীয় জেন–জিদের ককরোচ জনতা পার্টি কী বার্তা দিচ্ছে
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Friday, 22 May, 2026, 2:40 PM

ভারতীয় জেন–জিদের ককরোচ জনতা পার্টি কী বার্তা দিচ্ছে

ভারতীয় জেন–জিদের ককরোচ জনতা পার্টি কী বার্তা দিচ্ছে

ভারতের প্রধান বিচারপতি দেশটির বেকার তরুণদের সঙ্গে তেলাপোকার তুলনা করেছিলেন। এরপরই শুরু হয় একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন উদ্যোগ। এখন লাখো তরুণ ভারতীয় নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সেটিকেই বেছে নিচ্ছেন।

পোকাটিকে প্রতীক বানিয়ে ভারতীয় জেন–জিদের গড়া এই ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক দলটি (ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি) ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। অদ্ভুত হাস্যরসকে তারা প্রতিবাদের ভাষায় রূপ দিয়েছে।

দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অকার্যকারিতা নিয়ে তৈরি মিম, ছোট ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য পরিচিত তেলাপোকা। আর এই পোকাকেই এখন লাখো মানুষ টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে অবশ্যই তা খানেকটা ব্যঙ্গ-রসিকতার সুরে।

এই অনলাইন আন্দোলনের বিস্তার ঘটে অস্বাভাবিক দ্রুততায়। সিজেপি গত শনিবার ওয়েবসাইট চালু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলে অ্যাকাউন্ট।

গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়ায়। একই প্ল্যাটফর্মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনুসারী ৮৮ লাখ।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, এসবের কিছুই পরিকল্পিত ছিল না।

অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি একজন রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদও।

এই আন্দোলনের উত্থান ভারতীয় তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশার প্রতিফলন বলে মনে করেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, তরুণেরা ভীষণ হতাশ। ক্ষোভ প্রকাশের কোনো জায়গা তাঁদের নেই। তাঁরা সরকারের ওপর খুবই রাগান্বিত।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির জন্ম হয়। বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণদের মধ্যে তাঁর মন্তব্য তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

গত সপ্তাহে এক শুনানিতে সূর্য কান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণকারীদের পরজীবী বলে মন্তব্য করেন। তিনি কিছু বেকার তরুণ ও অ্যাকটিভিস্টকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, কিছু তরুণ আছে তেলাপোকার মতো, যারা কোনো চাকরি পায় না বা কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারে না। তাদের কেউ কেউ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা, সাংবাদিকতা বা জনস্বার্থমূলক প্রচারণায় জড়িয়ে পড়ে। আর সবাইকে আক্রমণ শুরু করে।

সূর্য কান্তের মন্তব্যগুলো দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ মন্তব্য তরুণদের প্রতি অবজ্ঞাসূচক হিসেবে দেখেন।

পরে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দেন যে তিনি ভুয়া ডিগ্রিধারীদের কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন। ভারতের তরুণদের অপমান করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে তেলাপোকা-সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জেরেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অ্যাকাউন্ট চালু হয়। তারা তেলাপোকাকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। মিম, ভুয়া নির্বাচনী স্লোগান ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে মোদি সরকারের সমালোচনা শুরু করে সিজেপি।

কয়েক দিনের মধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক এই উদ্যোগে যুক্ত হন। এমনকি বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও এই উদ্যোগে সমর্থন জানান।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ বলেন, পাঁচ বছর আগেও মোদি বা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কেউই কথা বলতে প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে।

অভিজিৎ আগে ভারতের আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে কাজ করেছেন। দলটি ২০১২ সালে ভারতের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠে।

সিজেপির সঙ্গে কোনো বাস্তব রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন অভিজিৎ। তবে তিনি বলেন, এর উত্থান দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে দেখা একটি বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের বড় ভূমিকা ছিল।

অভিজিৎ আরও বলেন, তরুণেরা সত্যিই হতাশ। সরকার তাঁদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ভারতে এই চাপ বিশেষভাবে তীব্র। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি তরুণ। কিন্তু তাঁদের অনেকেই চাকরিসংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্বের মুখোমুখি।

অনেক তরুণ ভোটার মোদির ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপিকে নিয়েও ক্ষুব্ধ। ধর্মীয় বিভাজন বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, অর্থনৈতিক চাপ—এসব বিষয় তরুণদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ।

সিজেপি নিজেদের নিয়েও ব্যঙ্গ করতে ছাড়ছে না। তাদের সদস্য হওয়ার মজার শর্তগুলোর মধ্যে আছে—বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে, পেশাদারের মতো রাগ ঝাড়তে জানতে হবে।

সিজেপির ইশতেহারেও ব্যঙ্গের মাধ্যমে ভারতের রাজনীতির নানা বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে—ভোট কারচুপির অভিযোগ, করপোরেট গণমাধ্যম ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সরকারি পদে নিয়োগের মতো বিষয়।

সমালোচকদের একটি অংশ, যাঁদের অনেকেই মোদির সমর্থক, তাঁরা এই উদ্যোগকে বিরোধীপন্থী রাজনৈতিক চটকদার অনলাইন কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অতীতে আপের সঙ্গে অভিজিতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথাও তাঁরা উল্লেখ করছেন।

সমালোচকদের দাবি, এই অনলাইন জনপ্রিয়তা দ্রুতই মিলিয়ে যাবে। কারণ, এটি কোনো তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলন নয়, বরং কেবল একটি ডিজিটাল প্রচারণা।

তবে অভিজিতের মতে, অনলাইনে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন ভারতে এসে গেছে…এটি রাজনৈতিক আলোচনার ধরন বদলে দেবে। এটি অনলাইনে চলবে, প্রয়োজন হলে মাঠেও গড়াবে।

ইতিমধ্যে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে অনলাইন থেকে রাজপথেও ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু তরুণ বিক্ষোভে তেলাপোকার পোশাক পরে অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও।

গতকাল অভিজিৎ জানান, ভারতে সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্টটি আটকে দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় দুই লাখ।

এটিকে এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রথম বড় পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন অ্যাকাউন্টটি আটকে দেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তবে কয়েক মিনিট পরই অভিজিৎ নতুন একটি অ্যাকাউন্ট চালুর ঘোষণা দেন। সঙ্গে তিনি একটি পোস্টও দেন। পোস্টে লেখা হয়, তেলাপোকা ফিরে এসেছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, ভাবলেন আমাদের সরিয়ে দিতে পারবেন? হা হা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status