ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৭ মে ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
চাকমা সংস্কৃতি রক্ষায় জাগ্রত এক নাম সুলোক শশী চাকমা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 17 May, 2026, 2:19 PM

চাকমা সংস্কৃতি রক্ষায় জাগ্রত এক নাম সুলোক শশী চাকমা

চাকমা সংস্কৃতি রক্ষায় জাগ্রত এক নাম সুলোক শশী চাকমা

আধুনিকতার প্রভাবে যখন পাহাড়ি জনপদের অনেক পুরোনো রীতি-নীতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার সুলোক শশী চাকমা নীরবে ধরে রেখেছেন চাকমা সম্প্রদায়ের শতবর্ষী বিয়ের ঐতিহ্য। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ম মেনে চাকমা সম্প্রদায়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আসছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন শুধু একজন আচার পরিচালনাকারী নন, বরং পাহাড়ি সংস্কৃতির এক জীবন্ত ধারক।

দীঘিনালা উপজেলার থানা পাড়া এলাকার বাসিন্দা সুলোক শশী চাকমা (৬৫) ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চাকমা সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী ১৩৯টি বিয়ে সম্পন্ন করিয়েছেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার, মন্ত্রপাঠ এবং চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী চুঙলং বা যদন অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বিয়েগুলোকে ধর্মীয় মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির সঙ্গে সম্পন্ন করে থাকেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি সমাজে একটি বিয়ে শুধু দুইজন মানুষের সম্পর্ক নয়, বরং দুই পরিবারের সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক। সেই বন্ধনকে ধর্মীয় পবিত্রতা ও সাংস্কৃতিক রীতির মধ্যে সম্পন্ন করতে সুলোক শশী চাকমার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেন, চাকমা সমাজে এখনো অনেক পরিবার বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা ঐতিহ্যগতভাবে সম্পন্ন করতে চান। সুলোক শশী চাকমা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি শুধু মন্ত্রপাঠ করেন না, বরং পুরো অনুষ্ঠানকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ি ছাড়াও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনেক পরিবার আগেভাগেই তার সময় নিশ্চিত করতে যোগাযোগ করেন। তবে বিতর্কিত বা বাল্যবিবাহের মতো কোনো অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন না। পাশাপাশি তিনি কোনো ধরনের বিবাহ সনদও প্রদান করেন না।

সুলোক শশী চাকমা বলেন, বিয়ে শুধু সামাজিক আয়োজন নয়, এটি একটি পবিত্র বন্ধন। তাই আমি চেষ্টা করি ধর্মীয় নিয়ম ও চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ঠিক রেখে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে। নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যায়, তাহলে একসময় আমাদের পরিচয়ও হারিয়ে যাবে।

তিনি জানান, বিবাহ অনুষ্ঠান পরিচালনার আগে নিজের ধর্মীয় শুদ্ধতা বজায় রাখতে প্রতি বছর অন্তত একবার বৌদ্ধ মন্দিরে অস্থায়ী শ্রামণ প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন এবং নিয়মিত অষ্টশীল পালন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমান সময়ে পাহাড়ি সমাজে আধুনিক আয়োজন বাড়লেও ঐতিহ্যবাহী বিয়ের রীতির প্রতি আগ্রহ এখনো রয়েছে। আর সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সুলোক শশী চাকমার মতো মানুষের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status