|
টানা দুদিনের তীব্র আন্দোলনের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() টানা দুদিনের তীব্র আন্দোলনের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস পুলিশ কলকারখানা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় জামাত নেতা মিয়াজ উদ্দিন ও বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় শুক্রবার (১৫ মে) এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট মালিল পক্ষ। পরে মধ্যরাতে বিএনপি নেতা কামালের সাথে মালিকপক্ষের লোকদের থানা ত্যাগ করতে দেখা যায়। কারখানাটির শ্রমিকরা তিন থেকে চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। শুক্রবারও শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। শ্রমিকদের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দিয়েও মালিকপক্ষ নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধ করেনি। সর্বশেষ ১৪ মে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রমিকদের একটি অংশ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকদের একাংশের হামলায় কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার মো. মিজানুর আহতের দাবি করেন। তিনি জানান, রাতেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন। অপরদিকে পুলিশের হামলায় একাধিক শ্রমিক আহত হন বলে দাবি শ্রমিকদের। এদিকে আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সুয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদারকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ, শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন, গাছা জোনের সহকারী উপ-কমিশনার এরশাদুর রহমান, কলকারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জামাত নেতা মিয়াজ উদ্দিন ও বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার মধ্যরাতে থানার অভ্যন্তরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী রোববার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় এক হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এ বিষয়ে মালিক পক্ষ ও স্থানীয় নেতারা কথা বলতে রাজি হননি। শ্রমিকদের মারধরের বিষয়টিও এড়িয়ে যান সকলে। শুক্রবার দিবাগত মধ্য রাতে থানায় এক ব্রীফিংয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মালিকপক্ষের সাথে দীর্ঘ আলোচনায় রোববারে দুই মাসের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়েও দেয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে শ্রমিকদের মারধরের বিষয়টি অশ্বিকার করেন ওসি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
