|
মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ
ধীরগতির কাজ, ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন, উদ্বেগ চলচ্চিত্র অঙ্গনে
সায়ীদ আবদুল মালিক
|
![]() মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের মূল সময়সীমা ছিল ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় ৪৮ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭১ কোটি ৭১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছরের জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৩২ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। অথচ প্রকল্পের কাজের গতি অত্যন্ত ধীর বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সূত্র জানায়, প্রকল্পটি শুরু থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ে। শুরুতে নির্ধারিত সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হয়। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকের দীর্ঘ শূন্য পদ ও বারবার পরিবর্তন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ২০২০ ও ২০২১ সালের করোনা মহামারিকে সহকারী প্রকল্প পরিচালক মনিরুজ্জামান প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই সময়ে লকডাউনের কারণে নির্মাণকাজে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে বলে দাবি করা হয়। তবে প্রকল্প বিলম্বের পেছনে আরও একাধিক প্রশাসনিক ও চুক্তিগত জটিলতা রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে ত্রুটি ছিল। নির্মাণকাজ শুরুর পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদার ব্যয় সমন্বয়ের দাবি জানায়। এতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে। এছাড়া প্রকল্পের নকশা ও কাঠামোগত পরিবর্তনও কাজের গতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে একটি সিনেপ্লেক্সে তিনটি স্ক্রিন রাখার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে দুটি সিনেপ্লেক্সে পাঁচটি স্ক্রিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আবারও পরিবর্তন এনে তিনটি স্ক্রিনের একটি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সাবেক সরকারের নির্দেশনায় পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা দুটি সুইমিং পুলের পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে একটি সুইমিং পুল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব নকশা পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পায়। প্রকল্প সংশোধন প্রস্তাব ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, বৈদেশিক মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থাপত্য পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও ধীরগতির কারণে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের আধুনিকায়ন পিছিয়ে পড়ছে। তাদের মতে, প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় শিল্পের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো অতিরিক্ত সময় বা ব্যয় না বাড়িয়ে নির্ধারিত ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
