ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১১ মে ২০২৬ ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
কেমন গল্পের চলচ্চিত্রে দর্শক ফিরবেন প্রোগৃহে, বৈচিত্র্য আর বাস্তবতার সন্ধানে নির্মাতাদের ভাবনা
সায়ীদ আবদুল মালিক
প্রকাশ: Monday, 11 May, 2026, 5:21 PM

কেমন গল্পের চলচ্চিত্রে দর্শক ফিরবেন প্রোগৃহে, বৈচিত্র্য আর বাস্তবতার সন্ধানে নির্মাতাদের ভাবনা

কেমন গল্পের চলচ্চিত্রে দর্শক ফিরবেন প্রোগৃহে, বৈচিত্র্য আর বাস্তবতার সন্ধানে নির্মাতাদের ভাবনা

বাংলাদেশের সিনেমা হলে দর্শক ফেরানো এখন চলচ্চিত্র শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একসময় পারিবারিক, সামাজিক, রোমান্টিক কিংবা অ্যাকশন, বিভিন্ন ধারার ছবিতে মুখর থাকত প্রোগৃহ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা, অশ্লীলতা ও একঘেয়ে গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র দর্শকদের হলবিমুখ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও গবেষক অনুপম হায়াত মনে করেন, দর্শকের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়, আগের অভিজ্ঞতায় হতাশ দর্শক নতুন ছবি দেখতেও অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে বিচ্ছিন্নভাবে ভালো কিছু ছবি মুক্তি পেলেও তা প্রোগৃহে দর্শক টানতে পারছে না প্রত্যাশিত মাত্রায়।

বরেণ্য অভিনেতা-নির্মাতা সোহেল রানা মনে করেন, পারিবারিক গল্পের চলচ্চিত্রই আবার দর্শকদের হলে ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জীবন ও পারিবারিক আবেগভিত্তিক গল্পের অভাব রয়েছে। তবে একই সঙ্গে অ্যাকশনধর্মী ছবিরও প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিনোদনের বৈচিত্র্য বজায় থাকে। তার মতে, আয়নাবাজি, রেহানা মরিয়ম নূর বা বনলতা এক্সপ্রেস-এর মতো ভিন্নধারার কাজ দর্শকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করতে সম।

প্রখ্যাত নির্মাতা মালেক আফসারী বলেন, একক কোনো ধারার চলচ্চিত্র দিয়ে দর্শক ফেরানো সম্ভব নয়। তার মতে, পাসওয়ার্ড বা বরবাদ-এর মতো অ্যাকশনধর্মী ছবির পাশাপাশি প্রিয়তমা কিংবা মনপুরা-এর মতো আবেগঘন গল্পও প্রয়োজন।

চিত্রপরিচালক রায়হান রাফি মনে করেন, দর্শকের দুই ধরণের চাহিদাকে একত্রে বিবেচনা করতে হবে। তার ভাষায়, কাসিক দর্শক ও সাধারণ দর্শকের রুচির সমন্বয় ঘটিয়ে গল্প নির্মাণ করতে পারলেই সিনেমা আবার জনপ্রিয় হবে।

অন্যদিকে নির্মাতা সৈকত নাসির জোর দিচ্ছেন ‘মাসালা’ ঘরানার ছবির ওপর। তার মতে, বড় ক্যানভাসে নির্মিত, অ্যাকশন ও বিনোদনের মিশেলে তৈরি ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ কনটেন্ট দর্শকদের হলে টানতে পারে। এতে অ্যাকশন, কমেডি ও নাটকীয়তার ভারসাম্য জরুরি।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, আশির দশক পর্যন্ত দেশের সিনেমায় গল্পের বৈচিত্র্য ছিল। ফলে সব শ্রেণির দর্শক তাদের পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা হলে যেতেন। এখন সেই বৈচিত্র্যের অভাব স্পষ্ট। একই ধরনের গল্প ও উপস্থাপনা দর্শকদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দর্শক ফেরাতে প্রয়োজন শক্তিশালী গল্প, মানসম্মত নির্মাণ এবং রুচিসম্মত উপস্থাপনা। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও হলের পরিবেশ উন্নত করাও জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, বৈচিত্র্যময় গল্প, বাস্তবতার ছোঁয়া এবং বিনোদনের সুষম সমন্বয়ই পারে দেশের চলচ্চিত্রে আবারও সুদিন ফিরিয়ে আনতে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status