|
খরচের টাকাই উঠছে না, দামুড়হুদায় ধান কেটে বিপাকে কৃষক
সাজিদ হাসান সোহাগ, দামুড়হুদা
|
![]() খরচের টাকাই উঠছে না, দামুড়হুদায় ধান কেটে বিপাকে কৃষক কৃষকরা জানান, দিনে এক মণ ধানের সমপরিমাণ মজুরি দিয়েও মিলছে না কৃষিশ্রমিক।এতে ধান কাটতে না পেরে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরেজমিনে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন কৃষক। আবার কোথাও পাকা ধান জমিতেই ডুবে আছে। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও কৃষকের মুখে স্বস্তি নেই। কানাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীন নতুন সময়কে বলেন, ‘১বিঘা জমি ধান করেছিলাম। সর্বমোট খরচ হয়েছে ৩০ টাকা। অথচ সব মিলে ধান পেয়েছি মাত্র ২০ মণ। বেপারিরা দাম বলতাছে ২৪ হাজার টাকা। লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠতাছে না। কৃষকরা আরো জানান, মৌসুমের শুরুতে দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। পানি বৃদ্ধির পর গত দু-তিনদিনে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে জমিতেই পাকা ধান ফেলে রাখছেন। উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা শ্রমিক হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সকালে এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকরা আসছেন শ্রমিক নিতে। কিন্তু হাটে শ্রমিকের চেয়ে শ্রমিক নিতে চাওয়া কৃষকের ভিড়ই বেশি। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রতিমণ ধানের বাজারমূল্য যেখানে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকা, সেখানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গুনতে হচ্ছে ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। উপজেলার সীমান্তবর্তী কুতুবপুর গ্রামের কৃষক ইজামুদ্দিন জানান, দুই বিঘা জমিতে তার বোরো ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছিলেন না। পরে বুধবার সকালে কার্পাসডাঙ্গার শ্রমিকের হাট থেকে ১২০০ টাকা করে মজুরিতে আটজন শ্রমিক এনে ধান কাটেন। কিন্তু রাতে বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ধান শুকাতে ও বাড়িতে তুলতে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগবে। এতে খরচও বাড়বে। ইজামুদ্দিনের হিসাব অনুযায়ী, শুধু দুই বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে তুলতেই শ্রমিক খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া ধান রোপণ থেকে শুরু করে সেচ, সার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আরো প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই বিঘা জমির ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তার খরচ হবে ৬০ হাজার টাকা।তার ভাষ্য, উৎপাদন খরচ এত বেড়েছে যে ধান বিক্রি করে সেই খরচই উঠছে না। দুই বিঘা জমিতে তার ধান হবে ৪০ থেকে ৪২ মণ, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৪২ থেকে ৪৪ হাজার টাকা। একই ধরনের কথা বলছেন উপজেলার গোলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রোকনুজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকার ধান কেটে ঝাড়াই–মাড়াই করা শ্রমিকের দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। এতে মোটা অংকের লোকসান গুণতে হবে। এবার আমাদের মতো অনেক কৃষকই লোকসানের মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, গত মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা আট হাজার ৭৬৭ হেক্টর। তবে ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কৃষক কারণে ধান কাটতে পারেনি। এখন একসঙ্গে সবার পাকা ধান কাটতে শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ধান কেটে ঘরে তোলা শ্রমিকের দাম দ্বিগুণেরও বেশি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
