ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ভেঙে দেওয়া হোক যুগনীর সুইসগেট, এলাকাবাসীর জোর দাবি
রাসেল সিকদার, দেলদুয়ার
প্রকাশ: Wednesday, 6 May, 2026, 12:23 PM
সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 6 May, 2026, 2:26 PM

ভেঙে দেওয়া হোক যুগনীর সুইসগেট, এলাকাবাসীর জোর দাবি

ভেঙে দেওয়া হোক যুগনীর সুইসগেট, এলাকাবাসীর জোর দাবি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদী জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীতে পড়েছে।  বর্তমানে উৎস মুখ থেকে বাঘিলের কাঠুয়া যুগনীর স্লুইসগেট পর্যন্ত নদীটি খালে পরিণত হয়েছে। পলি জমে নদীর উৎস মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি নদী উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ হিসেবে লৌহজং নদী পুনঃ খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকার এই মেগা প্রকল্পটি আমার কাছে পুরোপুরি অর্থের অপচয় বলে মনে হয়েছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, উৎস মুখ বাদ দিয়ে ভাটিতে করটিয়ার ক্ষুদিরামপুরে লৌহজং নদীর অংশে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। যে নদীর উৎস মুখ পলি জমে বন্ধ হয়ে গেছে, সেই নদীর অনেক ভাটিতে আয়োজন করে পুনঃ খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। যদি নদীর উৎস মুখে পানি প্রবেশ করতে না পারে, তাহলে ভাটিতে খনন করা, টাকার অপচয় ছাড়া অন্য কোন লাভ হবে কি?

এক সময়ে খরস্রোতা নদী ছিল লৌহজং। যা টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গেছে আটিয়া নদী সহ কয়েক নদীতে। ভুল পরিকল্পনায় তৈরি একটি স্কা একটি সুইস গেটের কারনে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। সময়ের বিবর্তনে দখল ও দূষণে নদীটি এখন হাজা-মজা নালায় পরিণত হয়েছে। অনেকটা আমরা টাঙ্গাইল বাসী নিজ হাতে হত্যা করছি এই প্রমত্তা নদীকে।

বর্ষা মৌসুমে নদী কিছুটা প্রাণ ফিরে পেলেও সারা বছর ক্ষীণ ধারায় নালার মতো প্রবাহিত হয় এক কালের খরস্রোতা এই নদী।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা কর্ম পরিকল্পনার (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান/ ফ্যাপ-২০) অধীনে ১৯৯১ সালে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যোগিনীতে লৌহজং নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণ করায় মরে যেতে শুরু করে নদীটি। শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এর তীর দ্রুত দখল হয়ে যেতে শুরু করে। শুরু হয় ঘর নির্মাণ ও ধান ও সবজি চাষ।

এ ছাড়াও উজানে যমুনা ও এর শাখা ধলেশ্বরীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে লৌহজং নদীতেও। ফলে নাব্যতা হারাতে থাকে নদীটি। ফলে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বড় নৌকার চলাচল।

এক সময় এই নদীকে কেন্দ্র করে শহরের নিরালা মোড় এলাকায় নৌবন্দর ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা বাণিজ্যে আসতো এই নৌবন্দরে।মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল এখানে। বর্তমানে এসবের কিছুই নেই।

পাশাপাশি, পৌর এলাকার বসতবাড়ি থেকে নির্গত ময়লা পানি, আবর্জনা ও বিসিক শিল্প এলাকার কয়েকটি কারখানা ও সদর উপজেলার ক্ষুদিরামপুরে টেক্সটাইল মিল থেকে নির্গত বর্জ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করতে থাকে। লৌহজংয়ের পানি মানুষ ও গবাদি পশুর ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নদীর জলজ প্রাণীও বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এই কারনে আন্দোলনে নামে স্থানীয়রা। ফলে শহরের পুলিশ লাইনস হাজরাঘাট এলাকা থেকে বেড়াডোমা ব্রিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার দূষণ ও দখলমুক্ত করা হয়। এরপর তিন বছরের মাথায় এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরই ফাঁকে অবৈধ দখল আর দূষণে ফিরে যাচ্ছে আগের রূপে। কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে।

নদীর উৎস মুখ খনন না করে ভাটিতে খনন করলে নদীর উপকার হবে কি? ভেঙে দেওয়া হোক যুগনীর সুইসগেট ! নদীকে তার আপন গতিতে চলতে দেওয়া হোক। এলাকাবাসীর এটাই দাবি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status