|
কুড়িগ্রামে অভিযানে ১০ টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ০৯ সদস্যকে গ্রেফতার
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রামঃ
|
![]() কুড়িগ্রামে অভিযানে ১০ টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ০৯ সদস্যকে গ্রেফতার প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি(পিপিএম) সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মিডিয়ায়র প্রতিনিধিবৃন্দ। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ডিসেম্বর/২৫ থেকে জানুয়ারি/২৬ এই দুই মাসে কুড়িগ্রাম সদর থানা এলাকার কোট চত্ত্বর, নিউরন ডায়গনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতালের সামনে এবং জিয়া বাজারের সামনে থেকে ০৪ টি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ইং-১৭/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ০৭.৩৫ থেকে ০৭.৫৫ ঘটিকার সময় কুড়িগ্রাম থানাধীন হাসপাতাল পাড়া এলাকায় অবস্থিত নিউরোন ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগোনিস্টিক সেন্টার এর ভিতর হইতে একটি নীল রংয়ের টিভিএস এপাচি ১৬০ সিসি মোটর সাইকেল চুরি হয়। এই সংক্রান্তে মোটর সাইকেলের মালিক মোঃ নাজমুল ইসলাম (৩৫), পিতা-মৃত আকবার আলী, সাং-বাঞ্ছারাম (গাঞ্জাইবাড়ী), থানা ও জেলা-কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-২৭, তারিখ-২৪/০২/২০২৬ খ্রিঃ জিআর নং-৫৩/২৬ (কুড়িগ্রাম), ধারা-৩৮০ পেনাল কোড। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুড়িগাম সদর সার্কেল জনাব মোঃ মাসুদ রানা এর তত্ত্বাবধানে কুড়িগ্রাম থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ নওসাদ আলী ও তার টিম সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যন্যা গোয়েন্দা তথ্য বিচার বিশ্লেষন করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মোটর সাইকেল চোরদের সনাক্ত করে গাজীপুর কাশিমপুর থানা এলাকা হতে শাহজামাল ওরফে বাবু ও নুর ইসলামকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করেন এবং তাদের দেয়া তথ্য মতে লালমনিরহাট সদর থানার বড়বাড়ী হতে মিঠুন পাশা, কুলাঘাট হইতে আনিছুর রহমান, উলিপুর থানা এলাকা হতে খাইরুল ইসলাম বাবু, নাগেশ্বরী থানা হতে রফিকুল মাষ্টার, বারেক ও আজিজুল হক ফুলবাড়ী থানা হতে খাইরুল আলমকে আটক করেন। তাদের দেয়া তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে তাদের নিকট হতে সর্বমোট ১০ (দশ) টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ০২ টি মোটর সাইকেলের মালিকানা সঠিক পাওয়ায় পর মোটর সাইকেলের মালিক পৃথক দুইটি মামলা রুজু করলে মোটর সাইকেল দুটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম থানার এলাকায় অবস্থিত নিউরোন ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগোনিস্টিক সেন্টার এর ভিতর হতে যে নীল রংয়ের টিভিএস এপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেলটি চুরি হয়েছিল সেটি গত ইং-২৫/০১/২০২৬ তারিখে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর মাদকসহ মটর সাইকেলটি আটক করেন। যা বিজ্ঞ আদালতের আদেশ পেলে মূল মালিককে ফেরৎ প্রদান করা হবে বলে জানা ো হয়। অবশিষ্ট ০৭ টি মোটর সাইকেল বর্তমানে কুড়িগ্রাম থানা হেফাজতে আছে। হেফাজতে থাকা মোটর সাইকেলের মালিকানা যাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত মালিকানা যাচাই সাপেক্ষে মোটরসাইকেলগুলো প্রকৃত মালিকের নিকট আইনগত প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে বলে ব্রিফিং জানানো হয়। মামলার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়ে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত আসামী বাবু মিয়া ওরফে শাহজালাল, নুর ইসলাম, খাইরুল ইসলাম বাবু, ও রেজাউল হাসান ওরফে আঃ বারেক বিভিন্ন মেট্রোপলিটন, জেলা শহর ও উপজেলা শহর হতে মোটর সাইকেল চুরি করে বড়বাড়ীর মিটুল পাশা ও নাগেশ্বরীর রফিকুল মাস্টারের নিকট কম দামে বিক্রি করে। পরবর্তীতে রফিকুল মাষ্টার ও মিটুল পাশা তার অন্যান্য সহযোগীদের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র প্রস্তুত করে বিভিন্ন সাধারণ লোকের নিকট বেশী দামে বিক্রয় করে আসছিল। এই সংক্রান্তে বিজ্ঞ আদালতে আসামী শাহজামাল ওরফে বাবু মিয়া, রফিকুল মাষ্টার ও খাইরুল ইসলাম বাবু ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এই সংক্রান্তে কুড়িগ্রাম থানায় ০২টি, লালমনিরহাট সদর থানায় ০১টি এবং রাজারহাট থানায় ০১টি সর্বমোট ০৪টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত মোটর সাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় ০৯ সদস্যরা হলো- ১। মোঃ বাবু মিয়া ওরফে শাহজালাল (৫৫), পিতা-মৃত মফিজুল ইসলাম, মাতা-মৃত সাহাতন বেগম, সাং-স্বরুপ চামাক (বদ্দের বাজারের কাছে), থানা-রাজারহাট, জেলা-কুড়িগ্রাম, ২। মোঃ নুর ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ জয়নাল মিয়া, মাতা-মোছাঃ বানু বেগম, সাং-নারায়নপুর, থানা ও জেলা-জামালপুর, ৩। মোঃ খাইরল ইসলাম বাবু (৪০), পিতা-মোঃ আঃ আজিজ, মাতা-মৃত দেলোয়ারা বেগম, সাং-জানজায়গীর, খানা-উলিপুর, জেলা-কুড়িগ্রাম, ৪। মোঃ রেজাউল হাসান ওরফে আঃ বারেক (৩৮), পিতা-হবিবর রহমান মেম্বর, মাতা-মোছাঃ বুলবুলি বেগম, সাং শ্রীপুর (দক্ষিন ব্যাপারীরহাট), উভয়ের থানা-নাগেশ্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম। এছাড়া মোটর সাইকেল কেনা বেচা চক্র ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরীর করা গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- ১) মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫), পিতা-মৃত আঃ সাত্তার, মাতা-মৃত রহিমা বেগম, সাং-কুঠি পায়রাডাঙ্গা, থানা-নাগেশ্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম। ২) মোঃ মিটুল মিয়া ওরফে পাশা (২৬), পিতা-মোঃ ইদুল মিয়া, মাতা-মোছঃ মোছাঃ আমিনা বেগম, সাং-বড়বাড়ী শিবরাম, থানা ও জেলা-লালমনিরহাট, ৩) মোঃ খায়রুল আলম (৩৪), পিতা-মোঃ আইয়ুব আলী, মাতা-মোছাঃ খাদিজা বেগম, সাং-সিট রাবাইটারী, খানা-ফুলবাড়ী, জেলা- কুড়িগ্রাম। ৪) মোঃ আজিজুল হক (৩২), পিতা-মৃত আবুল হোসেন, মাতা-মোছাঃ জুলেখা বেগম, সাং-গোদ্ধারপাড়, ওয়ার্ড নং-০৬, নাগেশ্বরী পৌরসভা, থানা-নাগেশ্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম। ৫) মোঃ আনিছুর রহমান (২৯), পিতা-মোঃ আবুল কাশেম, মাতা-মোছাঃ শাহের বানু, সাং-বন্যাম কুলাঘাট, জেলা-লালমনিরহাট। ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, জনতার দোড়গোড়ায় পুলিশী সেবা পৌঁছে দেবার জন্য দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। চুরি ছিনতাই, মাদক, ও জুয়াসহ পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমান আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। প্রতিটি ঘটনা উৎঘাটন ও উদ্ধারে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। কুড়িগ্রাম জেলার আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এবং একই সাথে সকল অপরাধ নির্মূলে সম্মানিত কুড়িগ্রামবাসী ও মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
