ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
ফ্ল্যাটে বসবাস, লিফটে ওঠানামা
সুইপার কলোনির জীবনযাত্রায় বদল এসেছে কতটা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 16 April, 2026, 12:34 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 16 April, 2026, 1:17 PM

সুইপার কলোনির জীবনযাত্রায় বদল এসেছে কতটা

সুইপার কলোনির জীবনযাত্রায় বদল এসেছে কতটা

ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে। প্রতিটি ফ্ল্যাট ৪১২ ফিট। এর মধ্যে দুটি থাকার ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম। কোনো কোনো ফ্ল্যাটে বাবা-মা, ভাই–বোনসহ ৮-১০ জনও থাকেন। 

দয়াগঞ্জের এই জায়গাটায় আগে বস্তি ছিল। চারধারের দেওয়ালে বন্দি সুইপার কলোনি। এখন এখানে সুউচ্চ ভবন। গায়ে গা লাগানো তিনটি ভবনে ৩৪৩টি ফ্ল্যাট। প্রতি ভবনে দুটি করে লিফট। একেকটি ভবন ১০তলা উঁচু। 


ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে। প্রতিটি ফ্ল্যাট ৪১২ ফিট। এর মধ্যে দুটি থাকার ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম। কোনো কোনো ফ্ল্যাটে বাবা-মা, ভাই–বোনসহ ৮-১০ জনও থাকেন। 

হাই-ফাই টিভিতে ওয়াইফাই

পঁচিশ বছর বয়সী গোবিন্দ দাশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের (মুগদা থানার অন্তর্ভুক্ত) পরিচ্ছন্নতা কর্মী। বাবা-মা এবং তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে চারজন এক ফ্ল্যাটে থাকেন। বাইরের ঘরটিতে দাদার ছবি ঝোলানো। দাদার নাম ছিল নকারাজু, বাবার নাম গাটিসুর। 

সৌখিন গোবিন্দ ঘরটিতে  ইন্টেরিয়র করিয়েছেন। নিজে নেট থেকে ছবি নামিয়ে মিস্ত্রীদের দিয়ে সাজিয়েছেন ঘরটি। একটি বড় এলইডি টিভি রেখেছেন মাঝখানে, আর তাকগুলোতে গাছের টব। তার ঘরে ওয়াইফাই কানেকশন আছে। টিভি আর তিনটি টাচফোনে নেট চালান। 

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেছেন গোবিন্দ। পূর্বপুরুষের আদি নিবাস ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে শখের বশে বেড়াতে গিয়েছিলেন ২০১০ সালে। নিজেদের মধ্যে তারা তেলুগু ভাষায় কথা বলেন।

ইডলি-দোসা খেতে পছন্দ করেন। কলোনির গেটে প্রতি বিকেলে ইডলি-দোসার দোকান বসে, এছাড়া ঘরেও তৈরি হয়।     

অভাব ছিল দক্ষিণে

গোবিন্দর বাবার পছন্দের নায়ক চিরঞ্জিবী ও নাগার্জুনা আর গোবিন্দর আল্লু অর্জুন ও প্রভাস। বাবা যখন তরুণ ছিলেন তখন দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, তথা সুইপার কলোনিতে সব ছিল টিনের ঝুপড়িঘর। দাদার আমলে ছিল বাঁশ বেড়ার ঘর। কলোনিটিকে বাইরের লোকেরা বলত মেথর পট্টি। 

সুইপার কলোনির জীবনযাত্রায় বদল এসেছে কতটা

সুইপার কলোনির জীবনযাত্রায় বদল এসেছে কতটা

বাইরের লোক দূর দূর করত বলে নিজেদের জগতে নিজেদের বন্দি থাকতে হত। সারাদিন বর্জ্য সাফ করে ফিরে সন্ধ্যায় বন্ধুরা দেশি মদের বোতল খুলে বসতেন। মেজাজ চড়ে গেলে হল্লা-চিল্লা করতেন, ছেলে-বউ পেটাতেন। এখানে ঝগড়াও ছিল বিনোদন, সময় কাটানোর উপায়। 

আসলে মানুষগুলোর মনে দুঃখ ছিল খুব। তারা দলিত, মানে নিপীড়িত। ভারতীয় উপমহাদেশের বর্ণপ্রথার সর্বনিম্ন স্তরের মানুষ তারা। তারা ছিলেন অধিকার ও শিক্ষা বঞ্চিত মানুষ।

দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জাতে তেলুগু। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানায় তাদের পিতৃভূমি। তবে বেশিরভাগই নিজের গ্রাম তো দূরের কথা জেলার নামও জানেন না।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশরা তাদের বঙ্গভূমে নিয়ে আসেন। কারণ বাঙালিদের মধ্য থেকে পরিচ্ছন্নতার কাজে আগ্রহী লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন দক্ষিণ ভারতে অভাব ছিল, তাই অনেকেই রাজি হয় দেশ ছাড়তে। 

তাছাড়া ব্রিটিশরা স্বভাব মতো নানান প্রলোভন, প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। নগদ অর্থ দিয়ে লোভ বাড়িয়েছিলেন। তাদের এনে কাজে লাগানো হয়েছিল রেলওয়েতে, পৌরশহরগুলোতে আর চা বাগানে।  

সিলেটে দেশের প্রথম চা বাগান মালনিছড়া প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে। চুয়াডাঙার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত প্রথম রেললাইন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬২ সালে। আর দেশের প্রথম ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৪ সালে। 

তারপর থেকে চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জে একে একে গড়ে উঠতে থাকে চা বাগান, রেললাইন বিস্তৃত হতে থাকে এক জেলা থেকে আরেক জেলায়, আর পৌর শহরের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তাই দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলায় কর্মী আসার মিছিল থামে না। 

মধুমিতায় তিন টাকা রোজ 

আপ্পারাওয়ের বয়স এখন পঞ্চাশ। তার বংশনাম ভূপতি। তেলুগুরা বংশনাম আগে লেখে বলে তার নাম  ভূপতি আপ্পারাও। আপ্পার দাদার নামও একই ছিল। তিনি বাংলাদেশে আসেননি। তাদের পিতৃভিটা বিশাখাপত্তনমেই ছিলেন আমৃত্যু। 

ভূপতি তাদের গ্রামের নাম জানেন পাপাডু। ভূপতির বাবা যৌবনে চলে যান তখনকার বর্মা মুল্লুকে। কিন্তু সেখানেও সুবিধা করতে না পেরে বাংলায় চলে আসেন। 

এখানে তার আত্মীয় স্বজন কেউ ছিল, না তবে শরীরে বল ছিল। অসুরের মতো খাটতে পারতেন। আয়-রোজগার ছিল ভালো। কলোনির যেখানটায় ঘর তুলেছিলেন তার থেকে দুই ঘর পরের এক মেয়ের হৃদয় হরণ করেন। পরিণয় পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছায়। তাদের সংসার সুখেরই ছিল। প্রথম সন্তান আপ্পার জন্ম হয় ১৯৬৯ সালে। তারপর আরো দুই সন্তান।  

আপ্পা যখন বারো বছর বয়স তখন হঠাৎই বাবা নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি ভারত যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, দর্শনা দিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল তার। 

আপ্পা পরিবারের বড় ছেলে। মাকে নিয়ে বাবাকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন, পেরিয়ে গিয়েছিলেন দর্শনা, সেই বিশাখাপত্তনমের পাপাডু পর্যন্ত। দাদা তখনো বেঁচে ছিলেন। দাদা ও চাচারা সমাদর করেছিলেন। বাবা নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনে মুষড়ে পড়েছিলেন। 

বাবাকে না পেয়ে আবার মাকে নিয়ে আপ্পা ফিরে আসে দয়াগঞ্জ। সংসারে তখন আর কেউ রোজগেরে কেউ নেই। নানা ও মামারা মাঝে মধ্যে কিছু সাহায্য করেন, তবে তাদেরও সামর্থ্য এমন নয় যে প্রতিদিনই করতে পারেন।

সংসার তাই আপ্পার ঘাড়ে এসে পড়ল। এরশাদ আমলের শুরুর দিকে আপ্পা পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ পেলেন মধুমিতা সিনেমা হলে। দৈনিক মজুরি ৩ টাকা। সকাল হওয়ার আগেই হলে পৌঁছে প্রথমে আগের দিনের সব বর্জ্য সাফ করতেন, এটা করতে করতে ৩টার শোয়ের সময় চলে আসত। পরের শো শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত অবসর হতে পারতেন না। দিনের কাজ ফুরিয়ে যাওয়ার পর  হলের ভেতরে ঢুকে এককোণে বসে যেতেন। সিনেমার পোকা ছিলেন আপ্পা।

যতদিন মধুমিতায় কাজ করেছেন কোনো সিনেমা দেখা তার বাদ ছিল না। এর মধ্যে বোনের বিয়ে দিয়েছেন। নিজে বিয়ে করেছেন। বাবার চিন্তায় চিন্তায় মা অসুস্থ হয়েছেন, তার চিকিৎসা খরচও যুগিয়েছেন। 

আপ্পার নিজের দুই ছেলে, এক মেয়ে। সরকারি কাজ পাননি আপ্পা, তাই প্রাইভেট চাকরি করেই জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। 


ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে আপ্পাকে পরিবার নিয়ে কলোনির বাইরে চলে আসতে হয়েছে। তারপর যখন ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া শুরু হলো, তখন সিটি কর্পোরেশন নিয়ম করল যারা কর্পোরেশনে কাজ করেন কেবল তারাই ফ্ল্যাট পাবেন। 

আপ্পার মেয়ে স্বামীর চাকরিসূত্রে ফ্ল্যাট পেয়েছেন, কিন্তু আপ্পার ছেলেও যেহেতু প্রাইভেট চাকরি করেন তাই কলোনিতে তার আর ফেরা হয়নি। তবে কলোনির সঙ্গে তার নাড়ির যোগ, আসা–যাওয়া নিয়মিতই হয়। 

আপ্পার হলুদ পাঞ্জাবী

রাম নবমীতে (২৬ মার্চ ২০২৬) কলোনির গেটে আপ্পার সঙ্গে দেখা হলো। হলুদ পাঞ্জাবী পরা পাতলা গড়নের লোক। তার সঙ্গীদের আরো কয়েকজনের গায়ে হলুদ পাঞ্জাবী, নীল পাঞ্জাবীও গায়ে দিয়েছেন কয়েকজন। 

রহস্য জানতে চাইলে আপ্পারাও বললেন, "আজ রামের জন্মতিথি। এদিন আমরা রাম-সীতার বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করি। যারা হলুদ পাঞ্জাবী পরেছি তারা বরপক্ষ, আর নীল পাঞ্জাবী যারা পরেছে তারা কনে পক্ষ।" 

"দুইশ টাকা করে চাঁদা দিয়েছি প্রতি পরিবার। আরো যারা অবস্থাপন্ন তারা কেউ চাঁদার অতিরিক্ত চাউল দিয়েছে, কেউ ডাল দিয়েছে, কেউ তেল," যোগ করেন তিনি।

আপ্পা এখন কাজ করেন শাহবাগের বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে। নিয়োগ পেয়েছেন আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায়। বেতন পান ১৮ হাজার টাকা। ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলের ঘরে তিন সন্তান, কিন্তু ছেলে বেকার।  

আপ্পার ছোটবেলায় কলোনির ঘরগুলো ছিল অগোছালো। পায়ে চলা রাস্তা ছিল, আবার এঘর–ওঘর ডিঙিয়েও চলতে হতো। ঘরের দরজায় রান্না হতো মাটির চুলায় লাকড়ি গুজে। প্রতিদিনই এঘর–ওঘর ঝগড়া বাঁধত নানান ছুতোয়। খোলা ড্রেন ছিল, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যেত, পানি সরে যাওয়ার পথ ছিল না। 


ভবন হওয়ার পর এখন সবাই সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করেন। খাবার পানির জন্য নিচে হলরুমের দেওয়াল ঘেঁষে ১২টি কল লাগানো আছে। নির্দিষ্ট সময়ে পানি আসে, ফ্ল্যাটবাসীরা পানি নিয়ে ঘরে ঘরে জমিয়ে রাখেন। 

ঝগড়া-ঝাটি কমেছে

তেলুগু কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সভাপতি বি আপ্পারাও তিন বছরের জন্য এ বছর নির্বাচিত হয়েছেন। সোসাইটি মূলত বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে কাজ করে। কর্পোরেশনের কর্তারা তাদের মাঝেমধ্যে ডেকে নেন এবং তারা দাবি–দাওয়া উত্থাপন করেন। কখনো ফল পাওয়া যায়, কখনো যায় না। 

বললেন, "প্রায় পঁয়ত্রিশ শত লোক এই তিনটি ভবনে বাস করেন। আগের চেয়ে পরিচ্ছন্নতা বেড়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে। কোনো কোনো বাসায় শখে কেউ কেউ কলিং বেল লাগিয়েছেন। আগের মতো হল্লা–চিল্লা হয় না কলোনিতে, ঝগড়া–ঝাটি অনেকটাই কমে গেছে। আগে দশটা হলে এখন হয় দুইটা। হলরুমে দেড়শ লোকের বসার ব্যবস্থা আছে, অনেকে জন্মদিনের পার্টি দেয়। বাইরের জগতেও এখন আমাদের মেলামেশা কিছু বেড়েছে।" 

নৃত্যদল বা নাটকের দল কি আছে কলোনিতে? 

বি আপ্পারাও বললেন, "আমার নজরে আসেনি। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে করতে পারেন, তবে কোনো দল নেই। আসলে দারিদ্র্য আমাদের অনেক পিছনে ফেলে রেখেছে। আমাদের মধ্যে মাস্টার্স ছেলে আছে, গ্রাজুয়েট তো আছেই, কিন্তু নাম-ধামের কারণে চাকরি হয় না।" 

"বাঙালি বন্ধু জোটাতে আমাদের ছেলেরা পরিচয় গোপন রাখে। নাম রাখে দীপু, টিপু, বাবু। প্রযুক্তির বদৌলতে সারা পৃথিবীর খবর পাচ্ছি, কিন্তু আমরা কোথাও যুক্ত হতে পারছি না," বললেন বি আপ্পারাও।

ব্যালকনিতে গার্ডেন

সমিতির সহ-সভাপতি রাজু দাশ বলেন, "আমাদের শিক্ষার হার বেড়েছে প্রায় ৬০ ভাগ। কিন্তু এ হার দ্রুতই নেমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ মাস্টার্স পাশ করার পর যদি আবার সেই সুইপারের কাজই করতে হয়, তবে আর পড়াশোনা কেন? অথচ বাইরের মাস্টার রেখে নিজেরা খেয়ে না খেয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছি, কিন্তু ভদ্রস্থ কোনো চাকরি হচ্ছে না; তাহলে পড়ার কোনো মানে হয়?" 


রাজু দাশ আরো যোগ করলেন, "আমাদের কমিউনিটির খুব কম লোক নাম করেছে, কিন্তু তারা পরে আর পিছনে ফিরে তাকায়নি। একজনের কথা মনে পড়ছে, বাংলা সিনেমায় নাম করেছিলেন, জাম্বু নামে সবাই চেনেন। গণকটুলি (আজিমপুর) কলোনির ছেলে। কিন্তু কমিউনিটির কাউকে টেনে তুলেছেন বলে জানি না।"

কলোনি থেকে বেরিয়ে আসার সময় পেয়ে গেলাম ভেপাড়া কুমারকে। বয়স চব্বিশ বছর। ইউল্যাব থেকে সিএসইতে স্নাতকোত্তর। জন ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে এ লেভেল করেছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। তারপর সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, কিন্তু ভাইভাতে বাদ পড়েছেন। 

পরে সে চেষ্টা বাদ দিয়ে যাত্রাবাড়িতে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চাকরি নিয়েছেন, আর একটি কোচিং সেন্টার খুলেছেন। আয় রোজগার তার ভালোই। পছন্দ করেন ফাস্ট ফুড খেতে। কলোনিতে  কম সময় থাকেন। 


তার মতে, ভবন হওয়ার পরে বাহ্যিক কিছু পরিবর্তন এসেছে। ব্যালকনি গার্ডেনিং তার একটি। আগে তো ব্যালকনি বলে কিছু ছিল না তাই গার্ডেনিং করার প্রশ্ন আসে না। 


ছেলে-মেয়েদের পোশাক ও হেয়ার কাটিংয়ে পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায়। ডাস্টবিন ব্যবহারে ছোটরাও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এটা একটা বলার মতো ব্যাপার। 

এখনো একশো বছর পিছিয়ে

"তবে আমি মনে করি এই কমিউনিটি এখনো ১০০ বছর পিছিয়ে আছে। এর প্রধান কারণ হলো পেশা। শত শত বছর ধরে মানুষগুলো বর্জ্য সাফ করছে। বাইরের জগতে আমাদের প্রবেশাধিকার নেই। এ কারণেই আমাদের এগোনোর পথ বন্ধ," বলছিলেন ভেপাড়া কুমার। 


নাতি বালাগীকে কোলে নিয়ে রাম নবমীর অনুষ্ঠান দেখছিলেন শিবরাত্রি আপ্পারাও। আড়াই বছর বয়স মাত্র বালাগীর, গত মাসে মাকে হারিয়েছে। মায়ের ব্রেন টিউমার হয়েছিল। এর আগে রাজুর স্ত্রী মারা গেছেন ব্রেন স্ট্রোকে। 


তিনি বলছিলেন, "আগে কলোনির লোক মরত ডায়রিয়া, কলেরা, ম্যালেরিয়ায়—এখন মরে ব্রেন স্ট্রোক নইলে হার্ট অ্যাটাকে। পরিবর্তন তো আর কিছু দেখি না।"
 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status