ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
কেন বাবার পরিচয় দেন না ইলন মাস্কের ট্রান্স কন্যা ভিভিয়ান
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 16 April, 2026, 12:28 PM

কেন বাবার পরিচয় দেন না ইলন মাস্কের ট্রান্স কন্যা ভিভিয়ান

কেন বাবার পরিচয় দেন না ইলন মাস্কের ট্রান্স কন্যা ভিভিয়ান

আবারও বিতর্ক ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সম্প্রতি ইলন মাস্কের ২১ বছর বয়সী কন্যা ভিভিয়ান জেনা উইলসন তাঁর সংগ্রামের গল্প ভাগ করে নিয়েছেন বিশ্বের সঙ্গে। আর সেখানে উঠে এসেছে মাল্টি বিলিয়নিয়ার বাবা ইলন মাস্কের প্রতি তাঁর একরাশ অভিমান ও ক্ষোভ। ভিভিয়ানের জীবনের গল্প হয়ে উঠেছে বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দূরত্ব, মানসিক সংগ্রাম এবং আত্মপরিচয় খুঁজে ফেরার গল্প।

ভিভিয়ান জেনা উইলসন ২০২২ সালের আগপর্যন্ত পরিচিত ছিলেন জেভিয়ার মাস্ক নামে। নাম পড়েই বুঝতে পারছেন, ২০২২ সালের আগপর্যন্ত ভিভিয়ানের লৈঙ্গিক পরিচয় ছিল ‘পুরুষ’।

২১ বছর বয়সী ভিভিয়ান বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া পারসোনালিটি হিসেবে পরিচিত। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী ছাড়িয়ে গেছে ১০ লাখ। কাজ করছেন মডেল হিসেবে। দেখা দিয়েছেন ‘ভোগ টিন’–এর প্রচ্ছদে।


২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল ইলন মাস্কের প্রথম স্ত্রী ও কানাডীয় লেখক জাস্টিন উইলসনের ঘরে জন্ম নেন ভিভিয়ান। তাঁর এক যমজ ভাই আছেন, নাম গ্রিফিন মাস্ক।

২০০৮ সালে ইলন মাস্ক ও তাঁর প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের বিচ্ছেদ হয়। মূলত তখন থেকেই, অর্থাৎ মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে ভিভিয়ানের।

২০২২ সালে ভিভিয়ান জটিল অস্ত্রোপচারের নিচে নিজেকে সঁপে দিয়ে শারীরিকভাবে নারী হয়েছেন। কেননা তিনি শারীরিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নারী না হলেও নিজেকে নারী হিসেবেই পরিচয় দিতেন।


অস্ত্রোপচারের পর নিজের নাম পরিবর্তন করেন, আইনিভাবে নিজের লৈঙ্গিক পরিচয় (নারী) নিশ্চিত করেন এবং নিজের নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেলেন। নিজের নাম নিজেই রেখেছেন ভিভিয়ান।

এর বাইরে একাধিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে তিনি নিজেকে বাবার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে চান না।

ক্রমেই লীন হয়ে যাচ্ছে বাস্তব আর অবাস্তবের মার্জিন লাইন। এই মডেলকেই দেখুন না! প্রচলিত আবেদনময়ী নারীর সব লক্ষণই রাখা হয়েছে তার মধ্যে

ভিভিয়ান বলেন, ‘আমার জীবনে আমার বাবার (ইলন মাস্কের) উপস্থিতি ১০ শতাংশেরও কম। আমার যখন বাবাকে সবচেয়ে প্রয়োজন ছিল, তখন পাশে পাইনি। সত্যি কথা বলতে, বাবাকে কখনোই পাশে পাইনি। অবহেলিত আর নিঃসঙ্গ এক শৈশব কেটেছে আমার।’

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব

ভিভিয়ান জেনা উইলসন একজন ট্রান্স নারী। কিন্তু এই পরিচয় গ্রহণের পথ সহজ ছিল না। ভিভিয়ান দাবি করেন, আত্মপরিচয় খুঁজে পেতে তিনি বাবার সমর্থন পাননি।

উল্টো তাঁর বাবা তাঁকে ভুল লিঙ্গে সম্বোধন (মিসজেন্ডারিং) করেছেন ও জোর করে অন্য লিঙ্গ চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন।


শৈশব ও কৈশোরের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগেছে তাঁর, নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ করতে হয়েছে বারবার।

ইলন মাস্ক তাঁকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে ভিভিয়ান বলেন, ‘তিনি আমাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কি না, জানা নেই। তবে এটুকু জানি, আমি তাঁকে (বাবা হিসেবে) স্বীকার করি না, পরিচয় দিই না। (বাবাকে নিয়ে) গর্বিত হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।’


ভিভিয়ান আগে জানিয়েছেন, তিনি তীব্র মানসিক চাপে ভুগেছেন। জাপানের টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ক্লাসে বারবার ভেঙে পড়তেন। পড়াশোনা শেষ না করে ‘ড্রপড আউট’ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন।

এমনকি একাধিকবার জীবনের প্রতি আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখার সময়টা ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন। এমনকি নিজের পরিচয়ে ফিরতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য পেয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে।

অতি সাধারণ

বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনীর কন্যা হওয়ার পরও ভিভিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সাধারণ জীবনযাপন করেন। রুমমেটদের সঙ্গে ভাগ করে থাকেন একটা সাধারণ বাসায়। নিজের খরচ নিজেই চালান। বাবার পরিচয়, সম্পদ বা কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করেন না। নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন, সে পথেই হাঁটছেন ভিভিয়ান।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status