ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 11 April, 2026, 11:07 AM

চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় সমাপ্ত করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করে।

প্যারাস্যুটের সাহায্যে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি সমুদ্রে নামার পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি এবং চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’

সমুদ্রে অবতরণের পর নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি বিশেষ নৌযানে নেওয়া হয়, যাকে মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিক্যাল বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাহাজে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নভোচারীদের নাড়ির গতি, রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন। মহাকাশে দীর্ঘ সময় ভারহীন অবস্থায় থাকার পর শরীরের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।

১০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নাসা জানিয়েছে, ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই সফলভাবে শেষ হয়েছে এই অভিযান। গত ১ এপ্রিল রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা। এই অভিযানে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে আর্টেমিস-২।

চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের রেকর্ডকে (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) পেছনে ফেলেছে। এছাড়া অভিযানের সময় নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের বিরল দৃশ্য সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

আর্টেমিস-২ মিশনটি মহাকাশ গবেষণায় বৈচিত্র্যের এক নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন। ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে বের হয়ে নভোচারীরা যখন নৌযানে ওঠেন, তখন হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উপস্থিত বিজ্ঞানীরা করতালির মাধ্যমে এই সাফল্য উদযাপন করেন।

মূলত ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার যে পরিকল্পনা নাসার রয়েছে, এটি ছিল তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম ও নেটফ্লিক্সসহ একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সফল এই মিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গল গ্রহ অভিযানের স্বপ্নকেও আরও গতিশীল করবে। সূত্র: এএফপি ও সিএনএন

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status