|
ফিলিং স্টেশনে নজরদারির অভাব, হয়রানিতে গ্রাহকরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ফিলিং স্টেশনে নজরদারির অভাব, হয়রানিতে গ্রাহকরা অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গ্রাহকদের বিরোধ বাড়ছে, যা সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি করছে। জানা গেছে, জ্বালানি তেল সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার ও পাম্পের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না করলে তা নির্দেশনা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পাম্প খোলা রাখা, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ, ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা মেনে বিক্রি, কনটেইনারে অবৈধ বিক্রি প্রতিরোধ এবং সারি ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয় জিও-ট্যাগসহ নিয়মিত প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার নাজমুল হাসান জানান, তিনি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হলেও নির্দেশনা বাস্তবায়নে একটি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের অনীহা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির ঘাটতিও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযোগ উঠেছে, চিলমারীর একটি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গ্রাহকদের দাবি, আপত্তি জানালে কিছু লোকজনের মাধ্যমে তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন সাংবাদিক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহের কারণে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১ লিটার বা ২০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হলেও, অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহক বেশি পরিমাণে তেল পাচ্ছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনকে তেল না দিয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের জেরিক্যান বা বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। এমনকি রাতের বেলায় বেশি দামে তেল বিক্রির ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তেল সরবরাহের সময় অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন মালিকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। এ অবস্থায় অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একইসঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র্যাব, পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
