বাবরি মসজিদ মামলার নিষ্পত্তির জন্য তিন সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী প্যানেল নিয়োগ করেছেন ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। এ কমিটিকে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি ইব্রাহীম খলিফুল্লাহর নেতৃত্বের প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন- ধর্মগুরু রবিশঙ্কর ও আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চু।-খবর এনডিটিভি অনলাইনের।
শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এ নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত জানান, আইনি সহায়তার জন্য প্রয়োজন হলে এই তিন ব্যক্তি আরও লোককে তাদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
১৯৯২ সালে হিন্দুরা ওই বিতর্কিত জায়গায় একত্রিত হয়ে মোগল সম্রাট বাবরের নামের ষোড়শ শতকের মসজিদটি ধ্বংস করে দেন। এ নিয়ে পরবর্তী দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া এই মসজিদ নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিতর্কে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। মুসলমানরা সেখানে নতুন একটি মসজিদ গড়তে চান।
হিন্দুদের দাবি- সেখানে তাদের দেবতা রামের জন্ম হয়েছিল। কাজেই তারা সেখানে রামমন্দির নির্মাণ করতে চান।
১৫২৬ সালে মোগল সম্রাট বাবর মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৮৫ সালে মসজিদ প্রাঙ্গণে হিন্দু ধর্মীয় সংস্থাগুলো দেবতা রামের সম্মানে একটি মন্দির নির্মাণের অনুমিত চাইলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
১৯৪৯ সালে একদল হিন্দু মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে রামের একটি মূর্তি স্থাপন করেন। কিন্তু সেটি না সরিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ ছাড়া একজন হিন্দু ধর্মীয় গুরুকে সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়।
১৯৮৬ সালে ফয়জাবাদ জেলা প্রশাসন মসজিদ প্রাঙ্গণ হিন্দুদের ধর্মীয় আচার পালনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। এর পর ১৯৯২ সাল পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশ শান্তই ছিল।
কিন্তু ওই বছর বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপিসহ বিভিন্ন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের লোকজন মসজিদটি ধ্বংস করে দেন।