চকবাজার ট্রাজেডি: কেমিক্যাল গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 8 March, 2019, 1:08 AM
চকবাজার ট্রাজেডি: কেমিক্যাল গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত
পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ মঞ্জিলের দোতলা কেমিক্যালের গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর পরই কেমিক্যালে বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়। এতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আনুস্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দেন কমিটির প্রধান জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার।
প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করেছি। তবে তিনি প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানা গেছে, কী ধরনের কেমিক্যালের কারণে এত অল্প সময়ের মধ্যে আগুন এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তা নির্ধারণ করতে পারেনি তদন্ত দল।
বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি করার বিষয়ে মতামত দেয়া হয়েছে। প্রায় ২৫ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে মোট ৩১টি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ৫টি এবং দীর্ঘমেয়াদে ২৬টি সুপারিশ করা হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, কেমিক্যালসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার লাইসেন্স কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
তারা এও বলেছে, কেমিক্যালসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার লাইসেন্স নতুন করে যেন আর ইস্যু না করা হয়। এছাড়া অবিলম্বে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকার সব ধরনের কেমিক্যাল, প্লাস্টিক, পলিথিন, ব্যাটারি, জুতা, নকল ওষুধ ও প্রসাধন তৈরির কারখানাসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি যতদ্রুত সম্ভব এসব কারখানা এবং গোডাউনের সংখ্যা ও জনঘনত্ব বিবেচনায় অতিঝুঁকিপূর্ণ বা স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত ব্যক্তি ও পরিবারকে সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয় স্বল্পমেয়াদি সুপারিশে।
এছাড়া পুরান ঢাকার অবৈধ, অননুমোদিত এবং লাইসেন্সবিহীন কারখানার তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- জরুরি ভিত্তিতে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা ও গুদামসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম বা কারখানা সরিয়ে নেয়া।
পাশাপাশি অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন-২০০৩ ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা। রাসায়নিক দ্রব্যের মজুদ, বাজারজাত এবং বিক্রির জন্য যেসব লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তাদের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর করা। প্রসঙ্গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ মঞ্জিল হঠাৎ জ্বলে উঠলে তাৎক্ষণিক পুড়ে অঙ্গার হয় ৬৭টি তাজা প্রাণ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও চারজন।
অর্ধপোড়া বেশ কয়েকজন এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে।