চট্টগ্রামে পুলিশ পাহারার মধ্যেই ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 28 February, 2026, 9:19 PM
চট্টগ্রামে পুলিশ পাহারার মধ্যেই ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশি পাহারায় থাকা শীর্ষ ব্যবসায়ী স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে সন্ত্রাসীরা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় গুলি চালানো হয়। সে সময় জানালার কাঁচ ও দরজায় গুলি লাগে।
ঘটনার পর থেকে বাসাটিতে পুলিশি পাহারায় ছিল। তবে পাহারার মধ্যেই ফের গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা চার ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বাসার কাছে এসে গুলি চালায়। পুলিশের প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে-একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল।
একজন সাবমেশিনগান (এসএমজি) ব্যবহার করে। একজন চাইনিজ রাইফেল, আরেকজন শটগান থেকে গুলি ছোড়ে।
গুলির সময় বাসায় পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য পাহারায় ছিলেন। তবে তারা প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাঁদার টাকা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে। সাজ্জাদ প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় জানুয়ারিতে গুলি করা হয়। প্রায় ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বার্তাও পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, সকালে নামাজ শেষে সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করে এসে গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে গুলি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। মুখোশধারী হওয়ায় হামলাকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও সাজ্জাদ আলীর সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২ জানুয়ারির ঘটনার পরও কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানা গেছে।