|
৪০ বছর পর জয়লাভ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের প্রত্যাবর্তণ
এস এম সাখাওয়াত জামিল দোলন
|
![]() ৪০ বছর পর জয়লাভ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের প্রত্যাবর্তণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনটি আসনেই জয় পেয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ড. কেরামত আলী (৪৩ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. মিজানুর রহমান (৪৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২) এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল (৪৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর)। জানা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের মীম ওবায়দুল্লাহ এবং ৮৬ ও ৯১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের মো. লতিফুর রহমান। পরে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন থেকে আসন দুইটি বিএনপি প্রার্থীদের দখলে চলে যায়। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন দুইটিতে জয় পেয়েছিলেন পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বিশ্বাস। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে একবারের জন্যও জামায়াত কোন প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর ড. কেরামত আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬২ টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লক্ষ ৬ হাজার ৮৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫১৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৪৪ হাজার ৩৭৮। এছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন ২ হাজার ২৬৩ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম ৫৫৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম ১ হাজার ৮৩ ভোট ও ইসলামী ফ্রন্টের নবাব শামসুল হোদা ৪৪৬ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৮৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৭১ হাজার ২২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ১১৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১৬ হাজার ১০৮। এ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাদেকুল ইসলাম ৬২৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম ৮ হাজার ১৭৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম খলিল ১ হাজার ৬৯ ভোট পেয়েছেন। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে কেন্দ্র ছিল ১৭২টি। সবকটি কেন্দ্র মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ঢাকা মহনগর দক্ষীণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ১৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫৯ হাজার ১৪৮। এ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ফজলুর ইসলাম খান সুমন ৬৩৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম ৮২০ ভোট ও গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম ৩৬১ ভোট পেয়েছেন। এদিকে জয়ের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থীরা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবারের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সেই বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও ১ আসনটিও এখন জামায়াতে ইসলামীর। এই বিজয় এককভাবে আমাদের নয়, এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের বিজয়। আমরা প্রতিটি ভোটারকে ধন্যবাদ জানাই এবং সবাইকে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক, উন্নত ও বাসযোগ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের প্রার্থীদের ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। নির্বাচনি ফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেও করেনি কোন আনন্দ মিছিল। পক্ষান্তরে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
