|
ট্রান্সকমের সিমিন রহমান ও তার মার মামলা থেকে অব্যাহতি
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ট্রান্সকমের সিমিন রহমান ও তার মার মামলা থেকে অব্যাহতি শুনানি নিয়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান এখন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান। আর অব্যাহতি পাওয়া বাকিরা হলেন- ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক ও সামসুজ্জামান পাটোয়ারী। আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিন জামিনে থাকা আসামিরা আদালতে হাজিন হন। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী ও বাদীপক্ষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মহসিন মিয়া, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিটের আহবায়ক খোরশেদ আলম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম আসামিদের মামলার থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, “আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মত উপাদান নেই, তাদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের মেয়ে শাযরেহ হক ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। শাযরেহ হকও ট্রান্সকম গ্রুপের একজন পরিচালক। তদন্ত শেষে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেই মিটিংয়ের এজেন্ডা হিসেবে ছিল- পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন; ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন; লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন। এই মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়েছে। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করেন। এই বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তার বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি, ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে চার হাজার ৭২০টি শেয়ারসহ সর্বমোট ২৩ হাজার ৬০০টি শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। “এই মিটিংয়ের বিষয়ে শাযরেহ হক দাবি করেন, এই ধরনের বোর্ড মিটিং ২০২০ সালের ১৩ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকালে কম্পানির বর্তমান পরিচালককে ওই তারিখের বোর্ড মিটিং ও রেগুলেশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ই-মেইল অথবা ডাকযোগে কোনো নোটিশ বা চিঠির কপি পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধনী কম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর) জমাকৃত শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সিমিন রহমান। অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্থান্তর হলেও আরজেএসসি নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্থান্তরের ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ করা হয়েছে। এই শেয়ার হস্তান্তর জমা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা অর্থাৎ আসামিদের পক্ষে শুধু অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে আরজেএসসির প্রতিনিধির সম্মুখে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।” “এ ছাড়া ২০২০ সালে ভাই-বোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশির ভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট তৈরি করেন। এ জন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশির ভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো আরজেএসসিতে দাখিল করেন সিমিন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের করা এফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।” “অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এই স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
