|
রামিসা হত্যা মামলার দ্রুততম রায়: পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রামিসা হত্যা মামলার দ্রুততম রায়: পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী? সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও জানিয়েছেন যে, রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স যেন শুনানির জন্য দ্রুত এগিয়ে আনা যায়, সেজন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্যোগ নেবে সরকার।শুধু রাষ্ট্রপক্ষই নয়, রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীও। রায়ের পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন যে তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পরেই তাদের আশা শতভাগ পূরণ হবে। প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বরে এক নির্মম হত্যাকাণ্ড উন্মোচিত হয়। নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটের একটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু রামিসার রক্তাক্ত ও খণ্ডিত লাশ।এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার চূড়ান্ত রায়ে আজ ঢাকার একটি আদালত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদেরকে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। আদালতের ঘোষিত এই রায়ের পর রামিসার বাবার পাশাপাশি উভয় পক্ষের আইনজীবীসহ দেশের আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছেন। রায় কবে কার্যকর হবে? আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রামিসা হত্যার মতো দুঃখজনক একটি ঘটনার বিচার তারা মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যেই শেষ করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি প্রথম ঘটনা, যেখানে সব আইনি প্রক্রিয়া মেনে মাত্র ৬ কার্যদিবসে বিচার শেষ করা গেছে। রায়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলাটি উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় কার্যকর থাকবে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্ট ডিভিশনে যাওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পেপারবুক তৈরি করে সিরিয়াল অনুযায়ী মামলা শেষ করা হয়। তিনি আরও জানান, রামিসার মামলার ব্যাপারে তিনি প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেছেন এবং প্রধান বিচারপতিও সব ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। আইনমন্ত্রী জানান, রামিসা হত্যা মামলার পাশাপাশি এই ধরনের আরও যেসব মামলা বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে আছে, সেগুলোও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, রামিসা হত্যাসহ এই ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার বিচার যাতে দ্রুত শেষ করা যায়, সেজন্য তিনি নিজে বিষয়টি নিয়ে লেগে থাকবেন। এই ধরনের সবগুলো মামলা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, নিম্ন আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসার পর তারা যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার শুনানির উদ্যোগ নেবেন।তিনি বলেন, মামলার জন্য পেপারবুক তৈরি করতে প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশের দরকার হতে পারে। তবে এই কাজ শেষ হওয়া মাত্রই তারা যত দ্রুত সম্ভব আপিল নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
