শরবত, ঝালমুড়ি, পান নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে এসেছিলেন তাঁরা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 12 February, 2026, 10:34 PM
শরবত, ঝালমুড়ি, পান নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে এসেছিলেন তাঁরা
মুখে মাস্ক পরে পান–সিগারেট বিক্রি করছিলেন তিনি। পরিচয় ও ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বললেন, তিনি মূলত আসবাবপত্রের দোকানে কাজ করেন। পান–সিগারেট বিক্রি করা তাঁর মূল পেশা নয়। বাড়তি আয়ের আশায় তিন মাস ধরে সন্ধ্যার পর পান–সিগারেট ফেরি করেন।
এই ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় আজ বৃহস্পতিবার রামপুরা একরামুন্নেছা বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে। ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি রামপুরার অন্য একটি এলাকায় ফেরি করেন। তবে আজ কেন্দ্রের সামনে এসেছেন বিক্রি বাড়ার আশায়। বিক্রিও ভালো হয়েছে।
তাঁর মতো আরও দুজন অন্য এলাকার হকার পাওয়া গেল কেন্দ্রের সামনে। যাঁরা ভোটের দিন বিক্রি বাড়ার আশায় সেখানে এসেছিলেন। হকার দুজনের একজন হেলেনা বেগম। মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে তিনি ভ্যানে করে শরবত বিক্রি করতে এসেছিলেন। শুভদেব নামে আরেকজন হকার এসেছিলেন ঝালমুড়ি বিক্রি করতে।
রামপুরা এলাকায় একরামুন্নেছা বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা অন্য এলাকার তুলনায় বেশি। কেন্দ্রের ১২টি বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৯৯৬ জন। এটি ছিল পুরুষ কেন্দ্র। কেন্দ্রের সামনে কাউকে ঝালমুড়ি খেতে, কাউকে শরবত খেতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পান–সিগারেট বিক্রেতা (২৯) বলেন, তিনি মূলত বরিশালের ভোটার। তবে ভোট দিতে যাননি বিক্রির আশায়। তিনি রামপুরায় থাকেন স্ত্রী ও এক শিশুসন্তান নিয়ে। ২০০০ সালে ঢাকায় এসে আসবাবপত্রের দোকানে কাজ নেন। মাসে আয় হয় ২৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পান–সিগারেট বিক্রি করেন, বিক্রি হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার। মাসে ৫ হাজার টাকার মতো লাভ থাকে। আজ দুপুর ১২টায় কেন্দ্রের সামনে এসেছেন। বেলা দুইটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকার পান–সিগারেট।
শরবত বিক্রেতা হেলেনা বেগম (৪০) বলেন, তিনি ১৬ বছর ধরে শীতকালে পিঠা আর গরমকালে শরবত বিক্রি করেন। স্বামী গিয়াস উদ্দিন ১২ বছর আগে মারা গেছেন। চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে সংসার সামলাতে হয়েছে তাঁর। রামপুরার আরেক দিকে তিনি ভ্যান নিয়ে শরবত বিক্রি করেন। দিনে ১০০০–১২০০ টাকার শরবত বিক্রি হয়। আজ বিক্রি বাড়ার আশায় এই কেন্দ্রের সামনে এসেছেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টায় ৪০০ টাকার শরবত বিক্রি করতে পেরেছেন। সঙ্গে থাকা তাঁর মেয়ে ইয়াসমিন বলেন, বিক্রি আরও বেশি হবে বলে আশা করেছিলেন।
মালিবাগে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন শুভদেব (২১)। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জে। সেখানে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। আর্থিক অনটনে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। এক বছর ধরে ঢাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আট ঘণ্টায় মালিবাগে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন দুই হাজার টাকার। লাভ থাকে এক হাজার টাকা। আজ বিক্রি ভালো হবে, সেই ভাবনা থেকে ঝালমুড়ি নিয়ে বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রের সামনে এসেছেন। বেলা দুইটা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১ হাজার ৭০০ টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি করেছেন। একগাল হেসে জানালেন, এই পরিমাণ বিক্রি করতে পেরে তিনি বেশ খুশি।