ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬ মাঘ ১৪৩২
পুরুষদের চেয়ে নারীদের থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি কেন?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 29 January, 2026, 3:52 PM

পুরুষদের চেয়ে নারীদের থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি কেন?

পুরুষদের চেয়ে নারীদের থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি কেন?

অনেকেই মাঝেমধ্যে গলা ব্যথায় ভোগেন। এর মধ্যে ওজনও বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে রাতে ঘুম কম হয় এবং গলার কাছে ফোলা ভাব দেখা দেয়। কখনো বা হালকা ব্যথা, কখনো বা জ্বালা-জ্বালা অনুভূতি।

থাইরয়েডের কারণে এই সমস্যা নয় তো? গলার নিচে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে এটা হয়। কমবেশি অনেক নারীই থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগেন। আর নিয়মিত ওষুধও খেতে হয় সে জন্য। থাইরয়েড শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও হয়।

তা তেমন ভয়ের নয়। তবে যদি থাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলোর অস্বাভাবিক ও অনিয়মিত বিভাজন শুরু হয়, তখনই তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে বিশ্বজুড়েই গবেষণা চলছে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, পুরুষদের চেয়ে নারীদের থাইরয়েড ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি। এর নেপথ্যে রয়েছে হরমোনজনিত নানা কারণ।
 
কেন নারীদের থাইরয়েড ক্যান্সার বেশি হয়

ক্যান্সার মূলত শুরু হয় যখন থাইরয়েড কোষের ডিএনএ-তে পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ, কোষের ভেতরে রাসায়নিক পরিবর্তন শুরু হয়। এর জন্য অনেকটাই দায়ী নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই হরমোন থাইরয়েড কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।

বয়ঃসন্ধি কালে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অথবা রাতে ঘুমানোর সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠানামা হয়। ওই সময়েই হরমোনের গোলমালের কারণে থাইরয়েড কোষের বিভাজন শুরু হতে পারে। যা পরবর্তীতে ক্যান্সারের রূপ নিতে পারে।

পরিবারে কারো ক্যান্সার থাকলে তার থেকেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন না থাকলে, তার থেকেও থাইরয়েড ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
 
কোন বয়সে ঝুঁকি বেশি

দক্ষিণ এশীয় নারীদের ৪০ বা ৪৫ বছরের পর থেকে থাইরয়েড ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে ইদানীং কালে বয়স ত্রিশ পার হওয়ার পরেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণই হলো হরমোনের গোলমাল, যা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অসংযমের কারণে দেখা দিচ্ছে। থাইরয়েড গ্রন্থিতে মাংসল পিণ্ড বা টিউমার হলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

টিউমারের আকার খুব ছোট হলে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু একটু বড় হলে তার উপস্থিতি বাইরে থেকে বোঝা যায়। এ ছাড়া গলার স্বরে পরিবর্তন আসে, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যেতে বা অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে, কিছু গিলতে গেলে কষ্ট হয়, সংক্রমণ ছাড়াই একটানা কাশি ভোগায়।

থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য—বলছেন চিকিৎসকরা। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগ সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ে ধরা পড়ে। রোগ যে পর্যায়েই ধরা পড়ুক না কেন, অস্ত্রোপচারে সেরে যায় অনেক ক্ষেত্রেই। স্ক্যান করে যদি দেখা যায়, শরীরের অন্যত্র রোগ ছড়িয়েছে, রেডিয়ো আয়োডিন থেরাপি করে চিকিৎসা করা হয়।

পুরো চিকিৎসার পর রোগ ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই কম। তবে যদি অনেক বেশি বয়সে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে ভয়ের কারণ থেকেই যায়। সে কারণে থাইরয়েড থাকলে তার নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status