|
সাইবার বুলিংয়ের শিকার জাকসু এজিএস মেঘলা, হেনস্তাকারীদের দিলেন ‘অভিশাপ’
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() সাইবার বুলিংয়ের শিকার জাকসু এজিএস মেঘলা, হেনস্তাকারীদের দিলেন ‘অভিশাপ’ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রত্যেকবার বলি সাইবার বুলিং নিয়ে বলব না; কিন্তু বলতে হয়। প্রথমে তারকাদের স্লাটশেমিং, সাইবার বুলিং হতো। এরপর সেটি রাজনৈতিক নেত্রীদের হতো। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রতিনিধিদের হয় (কোনোটিই জাস্টিফাই করছি না)। ছাত্র সংসদ নির্বাচনকালীন প্রতিটি প্যানেলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্লাটশেমিং হয়েছে। নির্বাচনের পর বিজয়ীদের সাইবার বুলিং কয়েক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আরো বাড়বে। যেসব ছাত্রী প্রতিনিধির কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তারাও বাদ যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, সাইবার বুলিং হলে কিছু লোক বলে, ‘আমাদের দেশ এমন, মেনে নিতে।’ এরা সর্বোচ্চ লেভেলের ফ্যাসিস্ট। এই কথার মধ্য দিয়ে তারা সাইবার বুলিংকে স্বীকৃতি দেয় এবং নরমালাইজ করে তোলে। এদের মতে, ‘স্লাটশেমিং মেনে নিলেই দক্ষ, পরিপক্ব। আর মেনে না নিলে আমাদের যোগ্যতা নাই।’ তিনি আরো বলেন, এর থেকে নিকৃষ্ট তারা, যারা এগুলো নিয়ে বললে বলে— ‘এই তো, ভিকটিম সাজতে চলে আসছে।’ আমি ভিকটিম। আমি বলব না? সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি বললে এরা বলবে, ‘ভিকটিম সাজতেসি।’ আর প্রতিবাদ করলে বলবে ‘বেয়াদব’। এই নিকৃষ্ট জানোয়াররা চায় আমরা চুপ থাকি। তাহলে তারা আরো ভালো স্লাটশেমিং করতে পারবে। তারকারা একটা ক্যাম্পেইন করেছে। তারা দিনে কতবার স্লাটশেমিংয়ের শিকার হয়। আমরা ছাত্রী প্রতিনিধিরা এই ক্যাম্পেইন করলে অনেক তারকা হেরে যাবে। এমন একটা দিন নেই, যেদিন স্লাট শেমিংয়ের শিকার হই না। বাংলাদেশে প্রতিদিন অগণিত নারী দিনে স্লাটশেমিংয়ের শিকার হয়। এত নারীর চোখের পানি, অন্তরের ব্যথার প্রতিদান যেন আল্লাহ দেন। আমরা আর হেদায়াত কামনা করি না। আমরা এখন বলি, ‘আল্লাহ আপনাদের ওপর গজব ফেলুক। আপনারা যা শুরু করেছেন।’ যে দলের, যে মতাদর্শের মানুষ আসল আইডি বা বট আইডি কিংবা পেজ দিয়ে স্লাটশেমিং, সাইবার বুলিং করে, তাদের ওপর গজব পড়ুক। এগুলো কখনো বাকস্বাধীনতা হতে পারে না। এই স্লাটশেমিং আবার শুধু ছেলেরা করে না। মেয়েরাও খুব চমৎকারভাবে করে। একদল হনুমান এসে বলবে, ‘জাকসুর এজিএস মেঘলা ভিক্টিম সাজতে আসছে। এই ঘিলু নিয়ে ছাত্রী প্রতিনিধি হয়েছে। সে সমালোচনা আর সাইবার বুলিংয়ের তফাত বোঝে না।’ হনুমানদের বলব, ‘আপনারা এই জায়গায় নিজের ঘরের মহিলার চেহারা বসায়ে দেখেন, এগুলো বাকস্বাধীনতার নামে সমালোচনা নাকি স্লাটশেমিং।’ এই হনুমানদের উচিত চিড়িয়াখানায় যাওয়া। মানুষজন টিকিট কেটে আপনার কোমর দোলানো নাচ দেখতে যাবে। আপনারা সমাজে থাকার যোগ্য না। যারা গতকাল ডাকসুর সাদিক কায়েমের মামলা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন, তারা একবার নারী প্রতিনিধিদের জিজ্ঞেস করেন, তার করা মামলা সঠিক না ভুল। ‘স্লাটশেমিং কখনো বাকস্বাধীনতা হতে পারে না।’ আমি মন থেকে চাই, এই জানোয়ারদের কখনো সন্তান না হোক। এদের ছেলে হলে বাপ-মায়ের মতো সাইবার বুলিং স্লাটশেমিং করবে। আর যে কুলাঙ্গাররা নারীদের স্লাটশেমিং করে, তারা কন্যাসন্তানের পিতা-মাতা হওয়ার যোগ্য না। অধিকার নেই। বি. দ্র. : কমেন্টবক্স বন্ধ রাখি। কিন্তু ইনবক্স তো বন্ধ রাখা যায় না। এইগুলো আমার স্লাটশেমিংয়ের ২০%। বাকি ৮০%-এর স্ক্রিনশটও নিইনি। এখন আর মেসেঞ্জারই চেক করি না।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
