|
বরগুনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন, বিএনপি অফিসের অগ্নিসংযোগ মামলায় ১২ আইনজীবী জেলহাজতে
তামান্না জেনিফার,বরগুনা
|
![]() বরগুনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন, বিএনপি অফিসের অগ্নিসংযোগ মামলায় ১২ আইনজীবী জেলহাজতে কারাগারে পাঠানো আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাহাবুবুল বারী আসলাম, অ্যাডভোকেট মজিবুল হক কিসলু, সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) মজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট জুনায়েদ জুয়েল, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির পল্টু, বুড়িরচর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, চরদুয়ানী ইউনিয়নের অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান জুয়েল, আবদুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট ইমরান, গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে সদ্য যোগদানকারী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম এবং অ্যাডভোকেট মিলন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম নজরুল ইসলামের ছেলে এসএম নঈমুল ইসলাম বাদী হয়ে বরগুনা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে। পাশাপাশি আসামি করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবীর, সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার টুকু, বরগুনা পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরও ১৫৮ জন নেতাকর্মীকে। এ ছাড়া মামলায় দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি আইনজীবীরা চলতি বছরের ২ জুন হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। শর্ত অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরগুনা জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলহাজ মো. নুরুল আমীন বলেন, “আসামিরা বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ভাঙচুর করেছেন। একই সঙ্গে বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।” অন্যদিকে আসামিপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোতালেব, নজরুল ইসলাম শিকদার, অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান নান্টু, সাবেক পিপি ভূবন চন্দ্র হাওলাদার ও অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান। তারা অভিযোগগুলোকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে আসামিদের জামিন চেয়েছিলেন। এ মামলায় বরগুনার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্যদের কারাগারে পাঠানো স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই মামলার রায় ও বিচার প্রক্রিয়া বরগুনা তথা দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
