ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬ ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
বাগমারায় পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল উদ্ধার
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 30 August, 2025, 8:41 PM

বাগমারায় পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল উদ্ধার

বাগমারায় পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল উদ্ধার

দোকানে এ্যালকোহল জাতীয় মাদকদ্রব্য রেখে বিক্রির অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাগমারা থানার পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। এই ঘটনায় আটক দুইজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার ৩০ আগস্ট, দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ২৯ আগস্ট, বিকেলে পুলিশ ২৩৮৮ বোতল নেশাজাতীয় এ্যালকোহলসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। 

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফেরি করে এ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। 

ওই মাদ্রাসার শিক্ষকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান (৪৯)। তিনি ভবানীগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের শিক্ষক। পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে তাঁর হোমিও ওষুধের দোকান রয়েছে। শিক্ষকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এগুলো ওষুধ হিসেবে কেনা। নেশাদ্রব্য হিসেবে বিক্রি করা হয় না। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অটোরিকশায় করে এ্যালকোহল ভবানীগঞ্জ বাজারে আসছিল বলে পুলিশের কাছে খবর আসে। খবর পেয়ে বাগমারা থানার একদল পুলিশ কেশরহাট- ভবানীগঞ্জ সড়কের দেউলা এলাকা থেকে অটোরিকশা আটক করে। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে তিন কার্টুন নেশাজাতীয় এ্যালকোহল দুইজনকে আটক করে পুলিশ। অটোরিকশার চালক প্রতিবন্ধী সিয়াম হোসেন (২৫) পুলিশকে জানান, সেগুলো ভবানীগঞ্জ বাজারের "প্রভাষক হোমিও ফার্মেসিতে' পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। তিনি মালামাল তার অটোতে তুলে দিয়েছেন।  পরে পুলিশের দলটি ভবানীগঞ্জ  বাজারের প্রভাষক হোমিও ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেও নেশাজাতীয় এ্যালকোহল উদ্ধার করে। এসময় দোকানের কর্মচারী দরগা মাড়িয়া গ্রামের সুলতান আহম্মেদকে (৫৩) আটক করে। ওই সময়ে দোকানের মালিক প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন না। তিনি অভিযানের খবর টের পেয়ে সটকে পড়েন। 

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সেগুলো চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য থেকে এ সংক্রান্ত নিবন্ধন ও অনুমতি রয়েছে। তিনি হোমিও দোকান ও মাদকদ্রব্যের নিবন্ধনের সনদ সাংবাদিকদের দেখান। তিনি দাবি করেন, পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি যাবতীয় কাগজপত্র লোকজনের মাধ্যম পুলিশকে দেখিয়েছেন। 

আটক সুলতান আহম্মেদের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাবা দোকানের কর্মচারী। আটক অটোরিকশার চালকের বাবা মধ্য দৌলতপুর গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, তাঁর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি ছেলের মুক্তি দাবি করেন। 

এদিকে ওই শিক্ষকের দোকান থেকে মাদক দ্রব্য উদ্ধার নিয়ে স্থানীয় লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা শুরু করেছেন। লোকজন তাঁকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি  উপজেলার অন্যান্য ফার্মেসিতে অভিযান চালানোর দাবি জানান। তাঁরা বলেন, মাদক সেবীরা এসব এ্যালকোহল মাদকদ্রব্য হিসেবে সেবন করে। স্থানীয় ভাবে এর নাম এইট্রি হিসেবে পরিচিত। 

বাগমারা থানার এক উপপরিদর্শক জানান, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেরি করে মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজের লোকদের মাধ্যমে মাদকসেবীদের ও আশাপাশের ছোট দোকানিদের কাছে বিক্রি করেন। দোকান থেকেও এইট্রি বিক্রি করেন তিনি। 

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমানসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করে আসছেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status