|
উদ্বোধনের আগেই হুমকির মুখে হরিপুর তিস্তা সেতু
মোঃ মাহবুবুল হাসান, চিলমারী
|
![]() উদ্বোধনের আগেই হুমকির মুখে হরিপুর তিস্তা সেতু পাইপলাইনের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু ফেলা হচ্ছে সংযোগ সড়কের পাশের ফসলি জমিতে, যা ইতোমধ্যেই সেতুর ভিত্তি ও আশপাশের জমিতে ভাঙন ও ধসের ঝুঁকি তৈরি করেছে। চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলামের সরাসরি সহযোগিতায় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে লঙ্ঘিত হচ্ছে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০। আইনের ৪(খ) ধারা অনুযায়ী, “সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন বা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।” কিন্তু বাস্তবে সেতুর মাত্র ৪০০-৫০০ মিটার দূরে বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন। অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল হয়নি এলাকার বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “বালু তোলার কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক ও আশপাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বহুদিন ধরে ইউএনও, পুলিশ, এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” আরেকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বপ্নের এই সেতু যদি উদ্বোধনের আগেই অনিয়মের শিকার হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্ব নিয়ে আমাদের বড় ধরনের শঙ্কা থেকেই যায়।” প্রশাসনের অভিযান আটকে দেয় প্রভাবশালীরা জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ একবার অভিযান চালালেও প্রভাবশালীদের চাপে অভিযান মাঝপথেই থেমে যায়। পরে, ৫ জুলাই চিলমারী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করলে সংঘবদ্ধ চক্র পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হলেও অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় ড্রেজার বসিয়ে আগের জায়গাতেই বালু উত্তোলন শুরু করে। স্থানীয়দের দাবির মুখে প্রশাসনের নিরবতা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা বলছেন, বালু চক্রের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তিন দফা দাবি সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন: ১. অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। ২. সেতুর ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যেকোনো ধরনের খনন, ভরাট ও বালু ফেলা নিষিদ্ধ করতে হবে। ৩. প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
