|
ডেঙ্গুতে দুই মাসে ২০ মৃত্যু, বরগুনা জুড়ে আতঙ্ক
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
|
![]() ডেঙ্গুতে দুই মাসে ২০ মৃত্যু, বরগুনা জুড়ে আতঙ্ক বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বরগুনায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১শ ৮৮জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯শ ৪৭ জন। মৃত্যু বরণ করেছেন ২০ জন। এর মধ্যে বরগুনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৫ জন মৃত্যুবরণ করেন, বাকি ১৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অধিকাংশই বরগুনা পৌর শহর ও সদর উপজেলার বাসিন্দা। একই সাথে জেলার পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী ও আমতলীতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর প্রকোপ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকার অতিরিক্ত ১০ জন চিকিৎসক ও ১০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স পদায়ন করলেও, ১১ দিন পার হলেও যোগদান করেছেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও একজন নার্স। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গুরোগীর চাপে জায়গা নেই হাসপাতালে। অনেকে মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। অনেকেই ডেঙ্গুর টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পরই আতঙ্কে চলে আসছেন হাসপাতালে। আর রোগীর সঙ্গে গড়ে থাকছেন ৩ জন স্বজন। সবমিলিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে প্রতিদিন অন্তত ৫০০-৬০০ জন রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আর এই ৬০০ রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে থাকছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি কাজ করছে রেপিড রেসপন্স টিম ( RRT) এর সদস্যরা। রেপিড রেসপন্স টিম এর সদস্য সহিদুল ইসলাম স্বপ্ন বলেন: হাসপাতালে দেখতে আসা ভিজিটরদের কারনে আমাদের কাজ করতে অনেক সমস্যা হয়,তারা রোগী দেখতে এসে ডাব,ফলসহ বেশ কিছু খাবর আনে সেই সব প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলে দেয়। বর্তমানে বেশ কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে স্বজনদের এ সব ময়লা নতুন করে মশা উৎপাদনে সহয়তা করবে । আমরা স্বেচ্ছাসেবকরা শতবার বলেও তাদের সচেতন করতে পারছি না, তাই এ থেকে বাঁচতে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। নিজের বাসা নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সাথে পৌর প্রশাসক ও প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে না হয় সামলানো সম্ভব নায়। হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আশিকুর রহমান বলেন, বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগীই ভর্তি যোগ্য নয়। অন্য জেলার সঙ্গে এ জেলার পার্থক্য হচ্ছে, এক দিনের জ্বর নিয়েও অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এমনিতেই বরগুনা হটস্পট এবং আক্রান্ত হওয়া রোগীর ভর্তি সংখ্যা বেশি। এ কারণেই আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, রোগীর সংখ্যা কমছে না, বরং বাড়ছে। তবে আমরা সবাইকে বলছি জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে, পাতলা পায়খানা, বমি, মাথাব্যথা বা অন্য জটিলতা দেখা দিলে তবেই হাসপাতালে ভর্তি হতে। এদিকে বরগুনায় ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
শফিকুল ইসলাম বেবুকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠিত
দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়,তবুও বদলায় না ৮০-তে পা রাখা ছাহেরা বেগমের দুঃখভাগ্য
শেরপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহে ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা
ফুলবাড়ীতে উন্নত ভুট্টা বীজে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি
