|
বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য হলেন কুদরত-ই-জাহান
দীপক কুমার সরকার, বগুড়া
|
![]() বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য হলেন কুদরত-ই-জাহান দীর্ঘ ২৪ বছর পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ৩ জুন ড. মো. কুদরত-ই-জাহানকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ৫৪তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। নওগা জেলা জন্ম নেয়া প্রফেসর ড. মো. কুদরত-ই-জাহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স এবং জাপানের ইয়ামাগাতা বিশ্ববিদ্যারয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। তিনি উচ্চমানের শিক্ষক ও গবেষক। আন্তর্জাতিক ও দেশি জার্নালে তার ১৭৬টি গবেষণাপত্র আছে। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। বিভিন্ন বাধার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ২০২৩ সালের ১০ মে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকার এসআরও জারি করে। বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ অনুযায়ী বগুড়া জেলার জামালপুর নামক স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সেসময় আর কোন তৎপরতা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি সেই সময়। তবে ২০০১ সালে পাস করা আইনটিই বলবৎ থাকে এবং ২০১৯ সালে আইনের যে খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেটি রহিত করা হয়। ২০২৩ সালের ১০ মে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এতে বলা হয়, ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ক্ষমতাবলে সরকার ২২ মে থেকে আইনটি কার্যকর করার তারিখ নির্ধারণ করেছে।’ ২০২৪ সালের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত হলেও, শেষ পর্যন্ত ভিসি নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়। জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ৬-৭ বার লিখিতভাবে উপাচার্য নিয়োগের অনুরোধপত্র প্রেরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সরাসরি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এরপর অবশেষে আইন পাশের দুই যুগ পর বগুড়ায় বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্ন পূরণ হলো। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রফেসর ড. হাসানাত আলী বলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ হওয়ায় অভিনন্দন, তাছাড়া এই অর্জন শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি একটি সামাজিক বিজয়, একটি জেলার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন। বগুড়া সরকারী আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: শওকত আলম মীর বলেন, “বগুড়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা লজ্জাজনক। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।” বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস নির্ধারণ ও বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ, ভর্তি কার্যক্রম শুরু এবং ভবিষ্যৎ ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ হয়নি। বগুড়াবাসী যেখানে চাইবে সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
