|
ঈদের কেনাকাটা স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা শুধুইবগুড়ার হকার্স মার্কেট ও ফুটপাত!
দীপক সরকার, বগুড়া
|
![]() ঈদের কেনাকাটা স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা শুধুইবগুড়ার হকার্স মার্কেট ও ফুটপাত! কথা হয় আরেক ক্রেতা শাহনাজ পারভীনের সাথে। তার স্বামী একজন এনজিও কর্মী। তিনিও ছোট দু’টো ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন এ সপিং মলে। পছন্দের সেরা পোষাকগুলোর সাথে বাজেটে মেলাতে না পেরে তিনিও মনের অনেক কষ্ট ছাপিয়ে নেমে পড়েন। তাহলে কোথায় পোষাক কিনবেন এমন প্রশ্নে তিনি দেখি অন্য কোথাও পোষাক কেনা যায় কিনা। শুধু আনিছুর রহমান, শাহনাজ পারভীনই নয়, এমন অসংখ্য নি¤œ আয়ের মানুষের কাছে সপিংমল বা বিলাপ বহুল পোষাক বিপণীগুলো যেন স্বপ্নের মতো! তাইতো তারা ছুটে চলেছে বগুড়ার হকার্স মার্কেট, আবার কখনও ফুটপাতেই মিলিয়ে নিচ্ছে সাধ্যের পছন্দের পোষাক। নিম্ন আয়ের এই বাবা মেয়ে এবং স্ত্রী রেহেনা নিয়ে চলে আসেন তাদের বাজেটের বগুড়া হকার্স মার্কেট। এখান থেকে তিনি ছয়শ’ টাকা দিয়ে জামা এবং চারশ’ টাকার সেন্ডেল কিনে মেয়েকে শান্ত করেন। মেয়েও জামা পেয়ে ভুলে যায় শহরের অভিজাত মার্কেট গুলোর দামি জামাকে। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সদরের মতো বিভিন্ন উপজেলা সদরের মার্কেটগুলোর জমে উঠেছে কেনাকাটা। উচ্চবিত্তরা নগরীর নামিদামি শপিংমল থেকে কেনাকাটা করলেও স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা শহরের হকার্স মার্কেট ও সড়কের পাশের ফুটপাতের বাজারগুলো। এখানে শিশুদের পোশাকসহ বড়দের শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি-পাজামা, সালোয়ার-কামিজ, জুতা-মোজা, স্যান্ডেল, ব্যাগ, বেল্টসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। অনেকেই মার্কেট ঘুরে দর-দাম দেখছেন, আবার অনেকে কিনে নিয়ে গলদঘর্ম হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এই মার্কেটে শুধুমাত্র যে স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড় তা কিন্তু নয়। এখানে বেশ কিছু দোকানে অনেক দামি দামি গজ কাপড় ছাড়াও অন্যান্য পণ্য পাওয়া যায়। রমজানের শুরু থেকেই দোকানগুলোতে পা ফেলানোর জায়গা নেই। ঈদ উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন এই মার্কেটে জমে উঠেছে স্বল্প আয়ের মানুষসহ সব ধরনের ক্রেতাদের ঈদের কেনাকাটা। এ বছর বেচাবিক্রি প্রথম থেকেই ভালো। তবে রোজার ১৫দিন পর থেকে আরও জমে উঠেছে বলে দাবী করেন হকার্স মার্কেটের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম। এই মার্কেটে এখন পর্যন্ত শিশুদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শিশুদের জন্য মাত্র ১৫০ থেকে হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের সালোয়ার কামিজের জন্য গুনতে হচ্ছে ৬শ’-২ হাজার টাকা। এছাড়াও ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি সবই হাজার টাকার মধ্যে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। হকার্স মার্কেট থেকে ৬০০ টাকায় বৌ এর জন্য থ্রিপিস কিনেছেন রিকশাচালক আমজাদ হোসেন। আরও কিনলেন স্যান্ডেল ২৫০ টাকায়। তিনি বলেন, আমাদের মতো নিম্নবিত্ত আর দিনমজুরদের জন্য হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোই এখন ভরসার জায়গা। এ দোকানগুলোর বাইরে কেনাকাটা করার সামর্থ্য আমার নেই। মার্কেটের নিম্নবিত্ত্ব ও মধ্যবিত্ত্ব পরিবারের জন্য নিত্যনতুন ও ফ্যাশনেবল গজ কাপড়ের দোকান রাহীমনি। এখানে সাথী, বিন্তি, ঐশি ও রিয়ামণি নামের তরুণী কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তারা বলেন, প্রায় একই ধরনের কাপড় নিউ মার্কেট ও বিপণী বিতানে অনেক দাম। এখানেও দাম নেয় তবে তা ঈদের জন্য সাশ্রয়ী। এই দোকান ছাড়াও এই মার্কেটে বেশ কিছু দোকানে বেশ ভাল মানের কাপড় মিলছে। কেনাকাটা করতে আসা শাহজাহান আলীর সাথে কথা হয় একটি দোকানে। তিনি বলেন, সব জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে। কিন্তু আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষের বেতন বাড়েনি। অল্প আয়ের মধ্যে থেকেই বছরজুড়ে ঈদের জন্য স্ত্রী কিছু টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকার সাথে তিন হাজার টাকা যোগ দিয়ে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের জন্য সব রকমের কেনাকাটা শেষ করেছি। এই মার্কেটে তাদের মত মানুষেরা সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করতে পারে। হকার্সগুলোতেও ভারত, পাকিস্তান, চায়নার টিস্যু, জর্জেট, চিকেনের জামার সাথে সাথে ওড়না ম্যাচিং করে পাওয়া যাচ্ছে। দোকানের বিক্রয়কর্মী আরমান জানান, অনেকে আসেন যারা একটু ডিজাইন করে জামা বানাতে চান তারা এই কাজ করা কাপড়গুলো নিয়ে দর্জিকে দিয়ে স্টাইলিস্ট পোশাক বানিয়ে ঈদে অনন্যা হয়ে উঠেন। এই জন্যই এই মার্কেটে সব ধরনের ক্রেতাদের এত ভিড়। দীপক কুমার সরকার বগুড়া প্রতিনিধি
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
নাঙ্গলকোটে মধ্য বয়সী এক লম্পটের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ
বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননবিরোধী অভিযান, ৩ ভেকু অকেজো, দুইজনের কারাদণ্ড
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
