|
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি'র আহবায়ক কমিটির আহবায়কে নিয়ে সর্বত্রই চলছে আলোচনা- সমালোচনা
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি'র আহবায়ক কমিটির আহবায়কে নিয়ে সর্বত্রই চলছে আলোচনা- সমালোচনা অপরদিকে আর একটি বিক্ষুব্ধ অংশ আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ইন্ডিয়ান নাগরিক তার বিরুদ্ধে এধরণের অভিযোগ তুলে তাকে বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়ে মশাল মিছিল করতে দেখা গেছে। গতকাল সোমবার ২৩ ডিসেম্বর রাত ১০ টায় কুড়িগ্রাম শহরের সুজামের মোড় থেকে যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে একটি মশাল মিছিল বের হতে দেখা যায়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালিবাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে করে। বিষয়টি নিয়ে শহরে বিএনপি' র দীর্ঘদিনের দলের অভ্যান্তরীণ কোন্দল পুনঃরায় মাথাচারা দিয়ে উঠেছে এবং পক্ষ ও বিপক্ষ বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে আহবায়ক জনাব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সাথে কথা হলে তিনি একবাক্যে স্বীকার করে বলেন, বৃহৎ দলে সবাই সবার আপন হতে পারেনা। সেখানে কোন্দল থাকবেই। সময়ের প্রয়োজনে সব ঠিক হয়ে যাবে। কথা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সকলকে মনে রাখতে হবে দল ভাঙ্গনের জন্য পরাজিত শক্তি কোননা কোনভাবে অপপ্রচার- প্রচারণা চালাবে। সেদিকে কান না দিয়ে দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি। উল্লেখ্য যে, আহবায়ক জনাব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র কমিটিতে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত একই পদে তিনি পূনঃরায় নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী ওয়ান ইলেভেনে জরুরী অবস্থার মধ্যে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক নেতাদের উপর দমনপীড়ন চালানো হয়, এবং অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হন। ২০০৯ থেকে ২০১০ সালে, তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১৫ এবং ২০১৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং হরতালের মাধ্যমে দিনটি শেষ হয়। এ সময় বিএনপি’র মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হন। ৩১ অক্টোবর মধ্যরাতে ডিবি পুলিশ জনাব মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। ২৩ দিন কারাবাসের পর ২১ নভেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপি’র একজন সাংগঠনিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত থেকে তিনি কুড়িগ্রামের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলা যায়। তাকে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করায় বিভিন্ন মহল অভিনন্দন জানাচ্ছেন। জেলা বিএনপির অন্য ৪ সদস্যের মধ্যে সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, ২নং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং সদস্য তাসভীর উল ইসলামও ফুলেল শুভেচ্ছা-অভিনন্দনে ভাসছেন। লক্ষ্য করা হয়েছে দীর্ঘদিন পর কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি'র আহবায়ক কমিটি ঘোষনা হওয়ার সাথে সাথেই জেলা বিএনপি সেই প্রাণচাঞ্চল্যময় পুরনো ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। আজ সারাদিন শহরের পাড়া, মহল্লা, অলি- গলি সর্বত্রই ঘোষিত জেলা বিএনপি'র আহবায়ক কমিটি নিয়ে চলছে আলোচনা- সমালোচনা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
