ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। আরও কয়েকদিন তীব্র গরমের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও আকাশ মেঘলাও দেখা দিতে পারে। তবে বাতাসের সাথে মেঘলা ভাব দূরীভূত হয়ে গেলেও তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে বলেও জানা গেছে।
তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ রাজধানীসহ দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগীয় জেলা শহরের জনজীবন। এসব বিভাগীয় ও জেলাগুলোয় বয়ে যাচ্ছে তীব্র মাঝারি ও মৃদু তাপপ্রবাহ।
এর ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের খেটে খাওয়া মানুষ সীমাহীন কষ্টের ভোগান্তিতে পড়েছেন। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করেই মাঠেঘাটে কাজ করছেন তারা। চালাচ্ছেন রিকশা, ঠেলাগাড়ি। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাহিরে বের হচ্ছেন না। খেটে খাওয়া শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের অনেকে বলছেন অল্প সময় কাজ করে হাপিয়ে পড়ছেন তারা। শরীর থেকে ঝরে পড়ছে (লবণাক্ত ঘাম) পানি। তবে এ গরমে স্বস্তি পেতে বেড়েছে কোমল পানিয়, আখের রস ও বিভিন্ন শরবতের কদর।
বিক্রেতারা বলছেন রাস্তার পাশে অস্থায়ী শরবতের দোকানগুলোতে আশানুরূপ সারা মিলছে তৃষ্ণার্ত ক্রেতাদের। খেটে খাওয়া মানুষদের অনেকেই বলছেন এমন তাপপ্রবাহের দিনগুলোতে সরকার যদি একটু দিনমজুর শ্রেণীর শ্রমজীবীদের আর্থিক সহযোগীতা করতো তাহলে ওই শ্রেণীর মানুষদের কিছুটা কষ্ট লাঘব হতো।
এদিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন হাসপাতালে এখনও তেমন কোনও রোগীর চাপ পরেনি তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে নাগরিকদের সুস্বাস্থ বজায় রেখে বাহিরে কর্মস্থলে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদা আখতার। তিনি বলেন খুব প্রয়োজন ছারা সকাল ৯/১০ টা থেকে দুপুর সময়ে যেন রোদের তাপে খেটে খাওয়া মানুষেরা বাহিরে কম বের হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
রাস্তার পাশের পানি ও শরবত গ্রহণ না করে নিজ বাড়ী থেকে পানি সংগ্রহে রেখে তা পানের পরামর্শও দেন তিনি। এর পাশাপাশি রোদে ছাতা ব্যাবহারে পরামর্শও দিয়েছেন সিভিল সার্জন। তবে খেটে খাওয়া শ্রেণীর মানুষের কাছে এসব তথ্য পৌঁছাতে সমাজের সচেতন মহলকে এগীয়ে আসারও আহ্বান জানান সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদা আখতার।
আবহাওয়াবিদ খন্দকার হাফিজুর রহমান মুঠো ফোনে জানান, চলমান মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের মধ্যে ঢাকাসহ কিছু জায়গায় থার্মোমিটারের পারদ ৪২ ডিগ্রিতে উঠে যেতে পারে। এক্ষেত্রে রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে তীব্র আকারে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তিনি জানান আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে আবহাওয়া পরিবর্তনের কোনও আভাস নেই। তবে তিনি বলেন কোথাও কোথাও মেঘলা ভাব থাকতে পারে সিলেটে হালকা বৃষ্টিপাতের কথা জানান আবহাওয়াবিদ খন্দকার হাফিজুর রহমান।
প্রসঙ্গত, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ধরা হয় মাঝারি আর ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ধরা হয় তীব্র তাপপ্রবাহ। এরপর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।