|
অজানা জ্বরে দুই বোনের মৃত্যু, রাজশাহী যাচ্ছে আইইডিসিআর দল
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অজানা জ্বরে দুই বোনের মৃত্যু, রাজশাহী যাচ্ছে আইইডিসিআর দল রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক মনজুর রহমানের ছোট মেয়ে বুধবার এবং বড় মেয়ে শনিবার মারা যায়। তারা বরই খেয়ে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়। শনিবার বিকাল থেকে মনজুর ও তার স্ত্রী পলি খাতুন হাসপাতালেই আইসোলেশনে আছেন। সেখানেই পলির জ্বর আসে বলে জানান হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তিনি রোববার সন্ধ্যায় বলেন, “দুপুরে পলি খাতুনের জ্বর দেখলাম ১০১ ডিগ্রি। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সে কারণেও জ্বর হতে পারে। আমরা ওষুধ দিয়েছিলাম। বিকালে জ্বর একটু কমেছে। আজকের রাতটা পর্যবেক্ষণে রাখব। জ্বর না বাড়লে সোমবার ছুটি দিয়ে দেব।” নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে- এমন প্রাথমিক ধারণা থেকে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলেন, “আমরা ওই দুই শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে তারা নিপা ভাইরাস আক্রান্ত ছিল কি না পরীক্ষা করেছি। তাদের দুজনের পরীক্ষায়ই নেগেটিভ ফল এসেছে।” তাদের মৃত্যুর কারণ তাহলে কী- এমন প্রশ্নে ডা. তাহমিনা বলেন, “তারা অন্য কোনো কারণেও মারা যেতে পারে। তাদের মৃত্যুর কারণ অন্য কোনো ভাইরাস কি না তা আমরা জানার চেষ্টা করছি। “এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। আমাদের একটি টিম এরইমধ্যে রাজশাহী রওনা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কারণ জানা যাবে।” মারা যাওয়া দুই শিশু হচ্ছে মুনতাহা মারিশা ও মুফতাউল মাশিয়া। ২ মার্চ দুই বছর বয়স হত মুনতাহা মারিশা এর এবং ৩০ মে পাঁচ বছর হত মুফতাউল মাশিয়ার বয়স। তাদের বাবা মনজুর রহমান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক। তার স্ত্রী পলি খাতুন গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামে। তবে তারা রাজশাহীর চারঘাটের সারদায় ক্যাডেট কলেজের কোয়ার্টারেই থাকতেন। পরিবার জানায়, শিশুরা কুড়িয়ে আনা বরই না ধুয়ে খেয়েছিল, তারপরই তাদের জ্বর আসে। এ দুই শিশুর মধ্যে বড় বোন মাশিয়া শনিবার বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যায়। চার দিন আগে বুধবার হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় মুনতাহা মারিশার। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম শামীম আহম্মদ বলেন, “পরীক্ষায় যখন কিছু পাওয়া গেল না, তখন আমিই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) কাছে অনুরোধ করলাম যেন একটা বিশেষজ্ঞ দলকে রাজশাহী পাঠানো হয়। “চার-পাঁচজনের এই বিশেষজ্ঞ দলটি সোমবার হয়ত রাজশাহী এসে পৌঁছাবেন। তারা হাসপাতালে আসবেন। পাশাপাশি এলাকায় যাবেন। লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন। পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করবেন। বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করবেন।” মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও শিশুদের বাবা মনজুর রহমান শারীরিকভাবে ভাল আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভয়-প্রলোভনে নারী শিকার, নর্থ সাউথ ট্রাস্টি শাহজাহানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ
শত ব্যস্ততার মাঝেও মানবিকতার আলো ছড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ
ছয় মাসের সাফল্য-চ্যালেঞ্জের খতিয়ান নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ
মাছ না মিললে চালও জোটে না: হালদা পাড়ে সেলাই মেশিনে নতুন স্বপ্ন, পাশে ডিসি জাহিদ
