বিশাল বড় এক টুকরি। পুরোটা ভরা হরেক রকমের জুতোয়। এই টুকরি মাথায় নিয়ে ঘুরে ঘুরে জুতা বিক্রি করেন ১৫ বছরের কিশোর মো. শুভ। তিনি একজন শিক্ষার্থী। বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায়। কৃষক বাবার সংসারে বাড়তি উপার্জনের জন্য এ কাজ করছে শুভ। সে বাজিতপুর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. সুজন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শেষে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে শুভ।
লালমোহন পৌরসভায় জুতা বিক্রির সময় কথা হয় কিশোর মো. শুভর সঙ্গে। সে জানায়, আমার পরিবার তেমন স্বচ্ছল না। পরিবারে আছে মা-বাবা, দুই ভাই ও দুই বোন। বাবা এলাকায় কৃষি কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। তাই এই সুযোগে বাড়তি উপার্জনের জন্য এলাকার অন্যান্যদের সঙ্গে ভোলায় এসেছি। এখানে এসে ভোলা সদরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় উঠেছি কয়েকজন মিলে। সেখান থেকেই প্রতিদিন সকালে টুকরি ভর্তি করে জুতা নিয়ে বের হই। ফিরি সন্ধ্যার মধ্যেই। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় যাই। সেখানের বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে টুকরি ভর্তি জুতা মাথায় করে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি।
শুভ জানায়, আমার কাছে রয়েছে নারী-পুরুষ ও ছোটদের জুতা। যার দাম পঞ্চাশ থেকে একশ টাকার মধ্যে। দাম কম হলেও জুতার মান অনেক ভালো। যার জন্য অনেকেই আমার থেকে জুতা কিনেন। সারাদিন ঘুরে প্রায় চার হাজার টাকার মতো জুতা বিক্রি করতে পারি। যেখান থেকে অন্যান্য খরচ বাদে প্রায় এক হাজার টাকার মতো লাভ হয়। এই লাভের টাকার কিছু নিজের কাছে রাখি, আর বাকিগুলো বাড়িতে পাঠাই। এতে করে পরিবার চালাতে আমার বাবার কিছুটা হলেও সুবিধা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে আবার বাড়ি ফিরবো। এরপর নিয়মিত স্কুলেও যাবো।
শুভর সঙ্গে আরেক জুতা বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ থেকে আমরা মোট ১২ জন এসেছি ভোলায়। সবাই মিলে ভোলা সদরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকছি। প্রতিদিন সকালের দিকে একেক জন একেক উপজেলার উদ্দেশ্যে বের হই। আমি গত ৫ মাসের মতো টুকরি ভর্তি করে এই জুতা বিক্রি করছি। আগে ঢাকায় কাজ করতাম। সেখান থেকে এলাকায় ফিরে এখন এই জুতা বিক্রির কাজ করছি। এতে মোটামুটি ভালোই লাভ হচ্ছে। আমাদের কাছে থাকা জুতাগুলোর দাম অনেক কম। যার জন্য অনেকেই আমাদের থেকে জুতা কিনেন। এর মাধ্যমে ক্রেতারও কম দামে জুতা পান, আর আমরাও বিক্রি করে লাভবান হই।
লালমোহন পৌরশহরের জুতা ক্রয়কালে মো. হোসেন ও নিরব জানান, বাজারের দোকানগুলোতে জুতার দাম অনেক বেশি। কারণ তাদের দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ আছে। এ জন্য বাজারের দোকানগুলোতে দাম বেশিই থাকে। ওদের কাছে যেসব জুতা রয়েছে তা খারাপ না, মোটামুটি ভালোই। যার জন্য দুইজন দুই জোড়া স্যান্ডেল কিনেছি। মনে হচ্ছে; ভালোই হবে। অল্প টাকার জিনিস, যতদিন টিকার-টিকবে।