|
ডেঙ্গুতে যে কারনে নারীদের মৃত্যু বেশি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ডেঙ্গুতে যে কারনে নারীদের মৃত্যু বেশি এবছর ডেঙ্গুতে নারীরা কেন বেশি মৃত্যুবরণ করছেন দেশের খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, নারীরা দেরিতে ট্রিটমেন্ট নেন। নারীরা পরিবারের অন্য সদস্যদের কেয়ার করতে গিয়ে নিজেদের কথা ভুলে যান। কালক্ষেপণ করে হাসপাতালে আসেন। নারীরা বেশি ঘরে থাকছেন। তারা রোদে কম যান। ফলে নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু কম। এসব কারণে তাদের বেশি মৃত্যু হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু জ¦র হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুতই রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একদিনে রেকর্ড ২২৯৩ জন শনাক্ত, ৯ জনের প্রাণহানি: সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগী। মিনিটে মিনিটে রোগী আসছে হাসপাতালে। হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। জুলাই মাসের ২৪ দিনে ১৩৮ জনের মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ২৭ হাজার ২৯২ জনে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে। এর মধ্যে নারী ১০৫ জন এবং পুরুষ ৮০ জন মারা গেছেন। মোট মৃত্যুর মধ্যে ঢাকার বাইরে মারা গেছেন ৩৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক ২ হাজার ২৯৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে গতকাল বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ২৯৩ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১ হাজার ২৩৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ৫৫ জন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ২ হাজার ২৯৩ জনসহ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৬৩ জনে। ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ হাজার ৩৯৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩ হাজার ৬৮ জন। চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার ২৭০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীর মধ্যে পুরুষ আক্রান্ত ২২ হাজার ৪১২ জন এবং নারী ১২ হাজার ৮৫৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ৬২২ জন। অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬৬ জন এবং মারা গেছেন ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ১৬৬ জন এবং মারা গেছেন ৩ জন, মার্চে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১১ জন এবং এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৩ জন এবং মারা গেছেন ২ জন। মে মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬ জন এবং মারা গেছেন ২ জন। জুন মাসে ৫ হাজার ৯৫৬ জন এবং মারা গেছেন ৩৪ জন। জুলাই মাসে শনাক্ত ২৭ হাজার ২৯২ জন এবং মারা গেছেন ১৩৮ জন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হবে। কারণ অনেক ডেঙ্গু রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন, তাদের হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই। মৃত্যু তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ৫ বছরের মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন (এরমধ্যে মেয়ে শিশু ৭ জন), ৬ থেকে ১০ বছরের ১২ জন (মেয়ে শিশু ৫ জন), ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ১২ জন (মেয়ে শিশু ৬ জন), ১৬ থেকে ২০ বছরের ২০ জন (মেয়ে ১৫ জন), ২১ থেকে ২৫ বছরের ১৯ জন (নারী ১১ জন), ২৬ থেকে ৩০ বছরের ১৯ জন (নারী ১৭ জন), ৩১ থেকে ৩৫ বছরের ১৪ জন (নারী ৬ জন), ৩৬ থেকে ৪০ বছরের ১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন (নারী ৬ জন), ৪১ থেকে ৪৫ বছরের ১০ জন (নারী ৪ জন), ৪৬ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৮ জন (নারী ৩ জন), ৫১ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে ১২ জন (নারী ১১ জন), ৫৬ থেকে ৬০ বছরের ৮ জন (নারী একজন), ৬১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে ১১ জন (নারী ৬ জন), ৬৬ থেকে ৭০ বছরের ৯ জন (নারী ৪ জন), ৭১ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ৩ জন (নারী একজন), ৭৬ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন পুরুষ এবং ৮০ বছরের উপরে প্রাণহানি ঘটেছে ৩ জনের (এরমধ্যে নারী ২ জন) রয়েছেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয় বললেন মন্ত্রী: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ চিকিৎসাসেবা দেয়া বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু বর্ষা মৌসুমে নয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন পৌরসভায় মশা নিধনের কাজটি সারা বছর করতে হবে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কে-৮০ ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের কাজ নয়, আমাদের কাজ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ জনগণকে অবহিত করা। মানুষের জ্বর বিভিন্ন কারণে হতে পারে, আমরা বলেছি জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমরা সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ৫০ টাকা করে দিয়েছি। আমরা দেখছি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোগীর সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের মূল কথা হলো ডেঙ্গু মশা কমাতে হবে, তাহলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে যাবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু বর্ষা মৌসুমে নয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন পৌরসভায় মশা নিধনের কাজটি সারা বছর করতে হবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
