|
কে এগিয়ে? ছক্কা ছয়ফুর না হিরো আলম?
এম.এস. দোহা
|
![]() কে এগিয়ে? ছক্কা ছয়ফুর না হিরো আলম? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘আমার ভোট আমি দিবো। যাকে খুশি তাকে দিবো।’ এরশাদের শাসনামলে এই ¯েøাগানটি ছিলো বেশ জনপ্রিয়। ভুতুড়ে ভোট ও গায়েবী ভোট ব্যাপক প্রচলন হয়েছিলো এরশাদের আমলে। তাই গনতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাত ও বামপন্থী সংগঠনগুলো রাজপথে ছিলো স্বোচ্ছায়। কিন্তু এসব ফর্মুলা, পরামর্শ ও আন্দোলন স্বৈরশাসক এরশাদের তেমন মাথা ব্যথা ছিলোনা। এরশাদের শাসনামলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বিরোধীদল বর্জন করে। ফলে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে যাচ্ছিলো জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। ঠিক এমন এক সময় আলোচনায় আসেন ছক্কা ছয়ফুর। যিনি ছয়ফুর রহমান নামে ডাব মার্কা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় একে একে প্রার্থী হন। ‘আল্লাহর গোলাম পার্টি’ নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠনও গড়ে তোলেন। দলের কর্মী সমর্থক খুঁজে না পাওয়ায় স্ত্রী মিনাকে সেক্রেটারী ও নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষনার মাধ্যমে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যান। সুযোগ পেলেও প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকেন নির্বাচনী মাঠে। মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান কোন কিছুই তিনি ছাড় দিতে নারাজ। সংসদের উপ-নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হিসেবে হতে হাত ছাড়া করেননি। কিন্তু জাতীয় পার্টি তথা সরকারের যাতাকলে পড়ে খুব একটা ভালো করতে পারছিলেন না। তবে খুব অল্প সময়ে দেশব্যপী ব্যপক পরিচিতি পান। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামাতের নেতা কর্মীদের মাঝে ছক্কা ছয়ফুরের কদর বাড়তে থাকে। ৮৬ সালে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন ছয়ফুর। প্রতীক পেয়েছিলেন ‘ডাব’। যা তৎকালীন সময়ে ব্যপক আলোচিত হয়। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদ হিসেবে দাখিল করেছিলেন একটি ঠেলাগাড়ী। যা ভাড়া দিয়ে আবার কখনো নিজেই চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। টান-টান উত্তেজনার নির্বাচন। ভোটের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে ডাব মার্কার জয়জয়কার। সেই সাথে ছক্কা ছয়ফুরের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাত ও বামপন্থীরাও তলে তলে ডাব মার্কায় সমর্থক। অতপর সকল জল্পনা-কল্পনা অবসান ঘটিয়ে ভোটের দিন ডাব মার্কায় ভূমিধস জয়। পরেরদিন জাতীয় পত্রিকাগুলো শিরোনাম হন ছক্কা ছয়ফুর। দেশব্যপী সে কি হৈ-চৈ! হাস্যরস! ডাব মার্কা ও ছক্কা ছয়ফুরের আলোচনা, সমালোচনা ও উদাহরন এরশাদের পতনের পূর্ব পর্যন্ত দেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে চলমান নির্বাচনগুলো দেশের অন্যতম বিরোধীদল বিএনপি বর্জন ও বয়কট করে চলছে। এই সুযোগে ছক্কা ছয়ফুরের ধারাবাহিকতায় আতœপ্রকাশ হয় ঝিনাইদহে নজহারুল হিজড়ার। যিনি নৌকার প্রার্থীকে ধরাশায়ী করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী। তৃতীয় লিঙ্গের প্রাথী হিসেবে বিজয়ী হয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেন তিনি। এবার আসা যাক ইউটিউবার হিসাবে ভাইরাল বগুড়ার ছেলে হিরো আলম প্রসঙ্গে। দেখতে শুনতে এতোটা স্মার্ট নন। কথাবার্তায় আঞ্চলিকতার প্রভাব। হকার থেকেই শুরু তার জীবন সংগ্রাম। কখোনো গায়ক, কখনো নায়ক, কখনো ভিলেন চরিত্রে আবির্ভূত হন তিনি। তারপর খায়েশ জাতীয় রাজনীতি। যেখানে ফাঁকা মাঠ সেখানেই হিরো আলম। নৌকার বিরুদ্ধে একতারা প্রতীকের প্রার্থী তিনি। একটুর জন্য হাতছাড়া হয় বগুড়ার উপনির্বাচনের কাহালু সারিয়াকান্দি আসনটি। দেশব্যাপী সে কি হায় আফসোস! এর ৪ মাসের মাথায় ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচন। চিত্রনায়ক ফারুকের মৃত্যুতে শুন্য হয় আসনটি। আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে ফাকা মাঠে গোল দিতে রাজী নন হিরো আলম। তাই ঝাপিয়ে পড়লেন রাজধানীর এলিট শ্রেনীর গুলশান বনানী এ আসনটিতে। একতারা প্রতীকে তিনি ব্যতিক্রমধর্মী প্রচার প্রচারনা চালিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচিত হন। ১৭ জুলাই নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে তিনি রহস্যজনকভাবে হামলার শিকার। কিল, ঘুসি খেয়ে দৌঁড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে আলোচিত। পরের দিন তার ভাগ্য আরো সুপ্রসন্ন। হিরো আলম সংবাদ শিরোনাম হন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। তাকে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। হয়তো জয়লাভ করলেও তিনি এতোটা আলোচিত হতেন না। এরশাদেও শাসনামলে থেকে এ পর্যন্ত আন্দোলন ও নির্বাচনী রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ কখোনো ভূল করেনি। ৮৮’র নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও শেখ হাসিনা অংশগ্রহনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দুরদর্শিতার পরিচয় দেন। এরশাদকে ফাঁটা মাঠে ছাড় না দিয়ে সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করেন। ২০০৬ সালের নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হলে আওয়ামীলীগ যথারীতি অংশগ্রহন করে। রাজনীতিকভাবে বিএনপি জামায়াতকে মোকাবেলা করতে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সাথে জোট গঠন করে। যথারীতি নির্বাচনী প্রচারনাও শুরু করে। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগ মুহুর্তে বিচারপতি কে.এম হাসান ইস্যুতে নির্বাচন বর্জন করে। যা ওয়ান-ইলেভেন সরকার পর্যন্ত গড়ায়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনীতির মারপ্যাচে ও অঙ্কের ভূলে বিএনপি এখন ধরাশায়ী। তত্মাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিচারপতি কে.এম. হাসানের বয়স বৃদ্ধিতে টেম্পারিং করতে গিয়ে ফাঁটা বাঁশে আটকে গেছে। যার মাধ্যমে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন তত্মাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে। এর রাজনৈতিক খেসারত এখন কড়ায় গন্ডায় দিতে হচ্ছে। কিন্তু হিরো আলম ইস্যুটি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিএনপি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জাতিসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি। যা বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য বিব্রতকরও বটে। লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক নতুন সময় E-mail: msdoha1@gmail.com, Cell: 01711-327059
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
