গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন ‘মীরাক্কেল-৬’ সিজনের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশি কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন। শুক্রবার বিকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে নাগরিক সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রনিসহ বাকি আহতরা হলেন- মোশাররফ হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল জিল্লুর রহমান, ইমরান হোসেন ও রুবেল হোসেন।
দুর্ঘটনার পর দগ্ধদের প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে রনি, মোশাররফ হোসেন ও জিল্লুর রহমানকে নেওয়া হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
হাসপাতালটির আবাসিক সার্জন এসএম আইউব হোসেন জানিয়েছেন, অভিনেতা রনির শরীরের ২৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া মোশাররফ ও জিল্লুর রহমানের আনুমানিক ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও দগ্ধের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। এ জন্য তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কিন্তু কীভাবে কী হলো?
জিএমপির সহকারী কমিশনার (ডিবি ও মিডিয়া) আবু সায়েম নয়নের বয়ান থেকে জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয় শুক্রবার বিকালে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রধান বক্তা ছিলেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।
প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে উদ্বোধন মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাতে বেশ কিছু বেলুন দেওয়া হয় উড়ানোর জন্য। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও সেই বেলুন উড়াতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন তিনি।
পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেই বেলুনগুলো মঞ্চের পাশে নিয়ে যান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানের মূলমঞ্চে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অন্যরা বেলুনে আগুন লাগিয়ে উড়ানোর চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ঘটনায় পাশে বসে থাকা আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। পুলিশ সদস্যরা তাদের গায়ে পানি ঢেলে আগুন নেভান এবং দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রনি, মোশাররফ হোসেন ও জিল্লুর রহমানকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।