ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১ জুলাই ২০২৬ ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
৬ লাখ টাকা নিয়ে ২১ লাখেও শোধ হয়নি!
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 15 March, 2022, 7:48 PM

৬ লাখ টাকা নিয়ে ২১ লাখেও শোধ হয়নি!

৬ লাখ টাকা নিয়ে ২১ লাখেও শোধ হয়নি!

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের দাখিনাল গ্রামের একটি পরিবার সুদের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। একজনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়ে ২১ লাখ টাকা দিয়েও পরিশোধ হয়নি। আরও ১৩ লাখ টাকা দাবি করেছেন মহাজন।

এছাড়া আরও দুইজনের কাছ থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও পরিশোধ হয়নি। আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করেছেন ওই দুই মহাজন।

কৃষিকাজ ও বাবার জন্য কড়া সুদে টাকা নেন উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের দাখিনাল গ্রামের বাবুল চন্দ্র দাশ (৪২)। আসলের চেয়ে অনেক বেশি টাকা পরিশোধের পরেও আরও টাকার জন্য মহাজনদের অপমান ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। এ নিয়ে দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ করছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভুক্তভোগীরা জানান, কৃষিকাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে সুদে টাকা এনে ফসল চাষ করেন। পরপর কয়েকটি ফসল নষ্ট হওয়ায় সুদের টাকা বেড়ে যায়। সুদে টাকা দেওয়া লোকের দাবি মতো টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও আসল টাকা দিয়ে মুক্তি চাইলে শনিবার দুপুরে ওই পরিবারের বাড়িতে এসে চাপসৃষ্টিসহ নানা গালমন্দ করে। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবুল চন্দ্র দাশ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয় তাকে।

বাবুল সাংবাদিকদের জানান, ওই এলাকার আব্দুল আজিত নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা সুদে এনে দীর্ঘ সময় ধরে এ পর্যন্ত ২১ লাখ টাকা দেন। আরও ১৩ লাখ টাকা দাবি করেন সুদ কারবারি আব্দুল আজিত। অপরদিকে শহিদ মিয়ার কাছ থেকে দেড় লাখ সুদে আনেন। এরপর তাকে প্রায় ৩ লাখ টাকা দেওয়ার পরেও অসহায় পরিবার দেখে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। পাশাপাশি বাবার চিকিৎসার জন্য একই এলাকার হাসন আলীর কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এনে সর্বমোট ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরেও আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করেন।

এমন অবস্থায় ওই পরিবারটির ওপর নানাভাবে চাপ দিতেই থাকে ওই সুদের ব্যবসায়ীরা। টাকা ফেরত নিতে বাড়িতে এসে সব সময় নির্যাতন করাসহ অকথ্যভাষায় গালমন্দ করে থাকে। ঘটনার দিন তিনজন সুদ ব্যবসায়ী একসঙ্গে তাদের বাড়িতে এসে চাপ ও নানা হুমকি দিলে এ অপমান সহ্য করতে না পেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবুল চন্দ্র দাশ।

বাবুল দাশের স্ত্রী শিপা রানী বিশ্বাস এ নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

সুদের টাকা দেয়া নিয়ে আব্দুল আজিত বলেন, বাবুল দাশ আমার কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা নেন। হাজারে বছরে ২০ কেজি ধান দেওয়ার কথা হয়। এ পর্যন্ত কত টাকার ধান দিয়েছে তা হিসেবে করে পরে বলতে পারবো। এ নিয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবো।

এলাকার অপর দুই সুদ ব্যবসায়ী হাসন আলী ও শহিদ মিয়া বলেন, পারিবারিক ঝামেলায় পরে টাকা হাওলাত নিয়েছে। আমরা কোনো প্রকার সুদে দেইনি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে ধান ক্ষেত ও পুকুর লিখে দেওয়ার কথা হয়।

এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রুহু যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ নিয়ে থানায় অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছে। এখন আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলেই ভালো হয়।

ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মাহাবুবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status