পেন্সিল ও রংতুলিতে মনের মত করে কিছু একটা আঁকতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। সবাই বাহারি পেন্সিলের আঁচড়ে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন ছবি ও সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্যসহ নদীর অবয়ব ধবধবে সাদা কাগজে ফুটিয়ে তুলছেন।
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের করিডরে। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে ইবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিন ক্যাটাগরিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে দিবসটি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. তপন কুমার রায়।
এছাড়া রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মু. আতাউর রহমান, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. মেহের আলী, প্রফেসর ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদসহ বিভিন্ন বিভাগের ও স্কুলটির শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেছেন, জাতির জনককে জানা মানেই হলো এক মহান ব্যক্তিত্বকে জানা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে জানা, সংগ্রামের একেবারে মূর্ত প্রতীককে জানা। আন্দোলন, মানুষের অধিকার, সভ্যতা সংস্কৃতি এসব জানা।
তিনি বলেন, আগামীর যে সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন তার মূর্ত নির্ভার হলেন নতুন প্রজন্ম। তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন আমরা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ধারায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার সোনালী স্বপ্নের দিকে। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে পারব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন আমরা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চাই। আজকের শিশুরাই আগামীর কর্ণধার। তাদের হাতেই বিনির্মাণ হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। তাই এখন থেকেই শিশুদেরকে সেভাবে গড়ে উঠতে হবে।
তিন ক্যাটাগরিতে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশু শ্রেণি হতে ২য় শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ‘গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য’, তৃতীয় শ্রেণি হতে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিষয় ‘নদী মাতৃক বাংলাদেশ’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায়।