কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় গুরুতর আহত রক্তিম শীলের জ্ঞান পাঁচ দিনেও ফেরেনি। তার পাঁজর, গলা ও দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়া মাথায়ও তিনি আঘাত পেয়েছেন।
হাসপাতালে তার সমন্বিত চিকিৎসা চলছে। তার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় আইসিইউয়ের বাইরে স্ত্রী সুমনা শর্মা শান্তা ও একমাত্র সন্তান ঋদ্ধি প্রহর গুনছেন। একই ঘটনায় রক্তিমের পাঁচ সহোদরের প্রাণ গেছে।
মঙ্গলবার ভোরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটে পিকআপ ভ্যানের চাপায় রক্তিম গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং পরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন ধরে তিনি চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ, আইসিইউ বিভাগ, নিউরো মেডিসিন, অর্থোপেডিক ও রেসপেরিটরি মেডিসিন মিলে রক্তিমের সমন্বিত চিকিৎসা চলছে। এদিকে রক্তিমের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিুমধ্যবিত্ত পরিবারটি। রক্তিমের স্ত্রী সুমনা বলেন, সরকারি হাসপাতালে তার স্বামীর চিকিৎসা হলেও প্রতিদিন ওষুধপত্র কিনতে হাজার হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। তাদের পক্ষে এত টাকা জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শনিবার সরেজমিন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আইসিইউ ওয়ার্ডের সামনে তীর্থের কাকের মতো বসে আছেন সুমনা। কখন চিকিৎসক এসে জানাবেন স্বামীর জ্ঞান ফিরেছে-এমন প্রতীক্ষায় তার সময় কাটছে। সঙ্গে রয়েছে তাদের একমাত্র সন্তান ঋদ্ধি। চার বছরের ঋদ্ধির পাঁচ দিনের বেশির ভাগ সময় কাটছে হাসপাতালের বারান্দায়। সেও তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে ব্যাকুল হয়ে আছে।
সুমনা জানান, তার স্বামী লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। মেশিনে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্যারামিটার ওঠানামা করছে। চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সুমনা আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে থাকলেও প্রতিদিন ওষুধপত্রসহ চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। এ খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমার স্বামীর জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সুমনার মা প্রভা দত্ত বলেন, এটিকে কোনোভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা বলে আমরা মনে করছি না। এটি একটি হত্যাকাণ্ড। একটি দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে রক্তিমের চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছি। ভগবানের কাছে কেবল তার জীবন ভিক্ষা চাইছি।
সুমনার খালাতো ভাই মিন্টু কুমার দত্ত বলেন, রক্তিম দাদার জ্ঞান না ফেরায় আমরা তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইছি। জেনারেল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেই তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিকে একই ঘটনায় রক্তিমের ভাই প্লাবন শীল ও বোন হিরা শীল আহত হন। কিছুটা সুস্থ হয়ে প্লাবন বৃহস্পতিবার চমেক হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান।