|
যেভাবে ধরা পড়ল শিশু আল-আমিনের ঘাতকরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
|
যেভাবে ধরা পড়ল শিশু আল-আমিনের ঘাতকরা ![]() যেভাবে ধরা পড়ল শিশু আল-আমিনের ঘাতকরা শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই মানিকগঞ্জ ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, গত ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বাইসাইকেল চালানোর জন্য শিশু আল-আমিন বাড়ির সংলগ্ন রাস্তায় বের হয়। কিন্তু এক ঘণ্টা পার হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা-বাবা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাড়ির আশপাশ ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন ২৯ আগস্ট তার বাবা শহিদুল ইসলাম সিঙ্গাইর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ৩১ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে স্বজনরা বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে বেরুন্ডি গ্রামে টেমা মিয়ার পরিত্যক্ত ভিটায় একটি বাঁশঝাড়ের ভেতর শিশুর পরিহিত গেঞ্জির অংশ, প্যান্ট ও মাছির আনাগোনা দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় বাঁশপাতা সরিয়ে মাটি খুঁড়ে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় আল-আমিনের মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। যেভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা মানিকগঞ্জ ইউনিটের পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিখোঁজের পর শিশু আল-আমিনকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি এবং ঘটনার সম্ভাব্য সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। সেই সঙ্গে নিহত আল-আমিনের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিশু আল-আমিনের চলাফেরার সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হৃদয়, সাদ্দাম ও নাজমুল নামে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে শনিবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসপি জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিন তরুণ জানান, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য যে কাউকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার পরিকল্পনা করেন তারা। এ জন্য তারা তিনজন প্রথমে আল-আমীনসহ দুটি শিশুর যেকোনো একজনকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু এর মধ্যে একজন বয়সে বড় হওয়ায় তারা টার্গেট পরিবর্তন করে শিশু আল-আমীনকে বেছে নেন। ![]() যেভাবে ধরা পড়ল শিশু আল-আমিনের ঘাতকরা ঘটনার পর আল-আমিনের ব্যবহৃত সাইকেল দিনের বেলায় হৃদয় ও নাজমুল লুকিয়ে রাখেন এবং ওই দিন রাতে হৃদয়দের বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুরে ফেলে দেন। তারা ২৮ আগস্ট আল-আমিনকে হত্যা করলেও ৩০ আগস্ট হৃদয় যে ডোবায় বস্তা পুঁতে রেখেছিলেন সেই বস্তা পানির নিচ থেকে তুলে পাশেই শুকনা জায়গায় মাটিতে গর্ত করে আবারও পুঁতে রাখেন। যে কারণে স্থানীয়রা ওই দিন মরদেহ খুঁজে পান। এসপি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ওই তরুণদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে হত্যার পর নতুন সিম থেকে শিশুর স্বজনদের ফোন দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করবেন। কিন্তু সাদ্দাম ঘটনার দিন নতুন সিম সংগ্রহ করতে না পারায় আল-আমিনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তারা। তাই তারা মুক্তিপণও চাইতে পারেননি। মুক্তিপণ চাওয়ার আগেই স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ পেয়ে যাওয়ায় তারা এলাকা ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন।’ তিনি বলেন, ‘তারা পালানোর জন্য প্রথমে মানিকগঞ্জ থেকে সাভারের একটি হোটেলে ওঠেন। সেখানে হোটেল বয়ের ফোন থেকে ওই শিশুর বাবার কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান হৃদয়, কিন্তু তারা ভয়ে ছিলেন যেকোনো সময় ধরা পড়বেন। তাই মুক্তিপণ চাইলেও তারা ওই দিন সাভার থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য যশোরের বেনাপোল সীমান্তে চলে যান। ‘তারা চেয়েছিলেন সেখানে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাবেন, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য যাদের সহযোগিতা প্রয়োজন তাদের পর্যাপ্ত টাকা দিতে না পারায় তারা পালিয়ে ভারত যেতে ব্যর্থ হন। পরে সেখান থেকে তারা রাজবাড়ীতে পালিয়ে যান। সেখানে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে পিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
