ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
কালীগঞ্জে বাঁশের সাঁকোই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একমাত্র ভরসা
এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 23 August, 2021, 3:31 PM

যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। অথচ দেশ স্বাধীনের পর তিন মুক্তিযোদ্ধাসহ চার গ্রামের কয়েকহাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। কবে সেতুটি নির্মাণ হবে সেই অপেক্ষায় আছেন সূর্যসন্তানেরা। সাঁকোটি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের পূর্ব রুদ্রেশ্বর মন্ডল পাড়া গ্রামে অবস্থিত।


কালীগঞ্জে বাঁশের সাঁকোই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একমাত্র ভরসা

কালীগঞ্জে বাঁশের সাঁকোই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একমাত্র ভরসা

সোমবার(২৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশ স্বাধীনের পর থেকে তিস্তা শাখা নদীর উপর এলাকাবাসি নিজ অর্থায়নে প্রতিবছর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করছেন। সেই বাঁশের সাঁকোটিও এখন নড়বড়ে অবস্থা। এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছেন। যাতায়তের একমাত্র ভরসা এই সাঁকোটি। যেখানে মানুষ চলাচলের গুরুত্বপূর্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো, সেখানে সেতু নির্মানের উদ্যেগ নেই কারো। 


অথচ একই এলাকায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এক কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সংযোগ সড়ক নেই এমন জায়গায় তিনটি সেতু নির্মান করেছেন।  বাঁশের সাঁকোটির ছবি তুলতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে এক বৃদ্ধ বলছিল ছবি তুলে কি করবেন? আমাদের দুঃখ দুর্দশা দেখার মত কেউ নেই। পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন কুদ্দুস ক্বারী নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। 


তার সঙ্গে কথা বলতেই তিনি আক্ষেপ করে বলেন,দেশ স্বাধীন করেছি কিন্তু স্বাধীন দেশের স্বাদ পেলাম না। তিনিসহ আজাহারুল ইসলাম ও জানু মন্ডল একই গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনজনই মুক্তিযুদ্ধে অংশহণ করেছিলেন। তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন,সৃষ্টিকর্তা আমাদের তিনজনকেই এখনো বেঁচে রেখেছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে এসেও জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। জানি না এই বৃদ্ধ বয়সে এখানে একটি সেতু দেখে যেতে পারবো কি না? 


ওই গ্রামের নুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, চার গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়ে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। নির্বাচনের সময় সেতু করে দিবে বলে সবাই আশ্বাস দিয়ে ভোট নিয়ে যায়।  নির্বাচিত হওয়ার পর  সেতু আর হয় না! স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করে শুধু প্রতিশ্রুতিই পাওয়া গেছে কিন্তু বাঁশের সাঁকোটির পরিবর্তে এখানে আজ পর্যন্ত একটি সেতু নির্মান হয়নি। কবে নির্মাণ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি কেউই। 


তবে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের বার বার ডেকে এনে দেখানোর পরেও সেতু নির্মানের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি । শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেলেন কেউ কথা রাখলেন না। এ বিষয় উপজেলা প্রকৌশলী এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, ওই এলাকায় যত দ্রুত সম্ভব মুক্তিযোদ্ধা এবং এলাকাবাসীর কষ্ট লাঘবে শীঘ্রই ওই স্থানে সেতু নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status