পবনদীপ রাজন বলেছিলেন, তিনি এই ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১২’-এ জেতার জন্য আসেননি, সেরা বিচারকদের কাছ থেকে শিখতে এসেছিলেন। কিন্তু ১৫ ইআগস্ট দুপুর বারোটা থেকে শুরু হওয়া গ্র্যান্ড ফিনালের প্রথম থেকেই একটি সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টালে পোল চলছিল। তাতে দেখা যাচ্ছিল, পবনদীপের দিকেই ভোট বেশি আসছে।
এরপর কাঁটায় কাঁটায় রাত বারোটার সময় পবনদীপের হাতে উঠল ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর ট্রফি। তার সাথে পবনদীপ পেলেন পঁচিশ লক্ষ টাকার চেক এবং গাড়ির চাবি।
উত্তরাখন্ডের একটি মিউজিক্যাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পবনদীপ। তাঁর বাবা সুরেশ রাজন এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। বাবার কাছেই পবনদীপের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি।
কলেজে পড়ার সময় থেকেই পবনদীপ বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। এভাবেই তিনি নিজেকে রীতিমতো পাকাপোক্ত করে তুলছিলেন। ২০১৫ সালে ‘ভয়েস অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় সুযোগ পান পবনদীপ। শেষ অবধি এই প্রতিযোগিতা জিতে যান তিনি। পবনদীপের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি, পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চেক, একটি মারুতি অলটো কে টেন কারের চাবি এবং ইউনিভার্সাল মিউজিক কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তিপত্র।
এই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালে পবনদীপের প্রথম মিউজিক ভিডিও ‘ইয়াকিন’ রিলিজ হয়। একই বছর ‘ভয়েস অফ ইন্ডিয়া’ পবনদীপকে উত্তরাখন্ডের ইউথ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালে আরুন হারুণ রশিদ -এর যৌথভাবে একটি মিউজিক অ্যালবামে কাজ করেন যার নাম ‘ছোলিয়র’। ২০১৭ সালে ‘রোমিও অ্যান্ড বুলেট’ ফিল্মের জন্য পবনদীপ ‘তেরে লিয়ে’ গানটি গেয়েছিলেন। গান ছাড়াও কি-বোর্ড, ড্রাম, তবলা, গিটারের মতো বেশ কয়েকটি মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতেও সিদ্ধহস্ত পবনদীপ। ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১২′-এর মঞ্চেও তিনি ঢোলক বাজিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন।
এবার পবনদীপের জিত প্রসঙ্গে কিছু কথা বলাই যেতে পারে। পবনদীপের কেরিয়ার গ্রাফ দেখে মনে হচ্ছে, তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। যতদূর জানা যায়, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মতো রিয়েলিটি শো-গুলি নতুন প্রতিভাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়। কিন্তু পবনদীপ তো তথাকথিত নতুন প্রতিভা ছিলেন না। অরুণিতা কাঞ্জিলাল-ও কিন্তু জি বাংলা ‘সারেগামাপা লিটল চ্যাম্প’-এর বিজয়িনী ছিলেন। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রথম তিনটি স্থানে তাঁরাই ছিলেন যাঁরা এর আগে কোনো না কোনো প্রতিযোগিতা জিতেছেন অথবা যাঁদের একটু হলেও শিল্পী হিসাবে পরিচিতি রয়েছে। তাহলে কি সত্যিই ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মতো রিয়েলিটি শো-গুলি ‘আইওয়াশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়? আশা করা যায়, একসময় এই প্রশ্নের উত্তর দর্শকরাই দেবেন।