নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর ডিস ব্যবসায়ী উজ্জল হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলেছে। ধারের টাকা না দিতেই ৩ বন্ধু মিলে খুন করে তাকে। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার আব্দুল মান্না মিয়া জানান, নিহত উজ্জল একজন ডিস ব্যবসায়ী ছিলেন। মাঝেমধ্যে নেশা গ্রহণেরও অভ্যাস ছিলো তার। বেশ কিছুদিন আগে তার অন্তরঙ্গ বন্ধু সুজন ও শরিফ ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নেন উজ্জলের কাছ থেকে। সেই ঋণের সুদের টাকার জন্য কয়েকদিন ধরেই চাপ দিচ্ছিলেন উজ্জল। এমন পরিস্থিতিতে সে টাকা না দিতে পারায় ঈদের পরদিন দুপুরে স্থানীয় বাজারে একত্রিত হয়ে উজ্জলকে খুনের পরিকল্পনা করে তারা। সেই অনুযায়ী নেশা ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শনিবার রাতে ভবানীপুর গ্রামের নির্জন বিলে নিয়ে যাওয়া হয় উজ্জলকে। তখন সেখানে সুজন, শরিফ ও রায়হান উপস্থিত ছিলেন। টাকা লেনদেনের কথাবার্তার এক পর্যায়ে সুজন কৌশলে উঠে গিয়ে পিছন থেকে উজ্জলের গলায় ধারালো ছুরি চালায়। সে চিৎকার শুরু করলে অন্য দুজন তার হাত-পা চেপে ধরে গলা কেটে ফেলে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য শরিফের কাছে থাকা আরেক চাকু দিয়ে দু’পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়। এরপর খুনিরা লাশ গুমের জন্য একটি পাটক্ষেতে ফেলে আসে উজ্জলের মৃতদেহ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর উজ্জলের মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সেই সূত্র ধরে এরইমধ্যে ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরেকজনকে খুঁজতে তৎপরতা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
প্রশঙ্গত, গত ২৪ জুলাই দিবাগত রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন নওগাঁ সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামের রহিমা বেগমের ছেলে উজ্জল হোসেন। পরদিন সকাল ৯টার দিকে গ্রামের পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।