ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২২ মে ২০২৬ ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
‘কেডা নিয়ে গেল আমার ভাতার টেহা?’
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 14 July, 2021, 5:11 PM

‘কেডা নিয়ে গেল আমার ভাতার টেহা?’

‘কেডা নিয়ে গেল আমার ভাতার টেহা?’

স্বামী-সন্তান কেউ নাই। একলা একলা দুঃখেই দিন যায় আমার। সরকার আমারে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিছে। ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলছি। অহন ৭ মাস ধরে টাকা নাই। ঈদ আইছে সামনে। এহানে (সমাজসেবা কার্যালয়ে) দুই দিন ধরে আইতাছি টাকার লাগি। অহন কয় আমার টেহা কেডা নিয়ে গেছে। কেডা নিয়ে গেলো আমার টেহা?

এসব কথা বলে আজ বুধবার দুপুরে নেত্রকোণার মদন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আমেনা আক্তার (৭৪) নামে এক নারী। আমেনা আক্তার উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড নায়েকপুর গ্রামের মৃত কেনু খানের স্ত্রী।

আমেনা আক্তারের এসব কথা শুনে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘরে বসে ভাতার টাকা উত্তোলন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শুরু হয়েছে। মোবাইল নম্বরে নগদ একাউন্টে ভাতাভোগীদের টাকা দেওয়া হচ্ছে।

আমেনা আক্তারের ভাতার টাকা ০১৩১৪-৯৪৪২৬৮ নম্বর নগদ অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে। ওই নম্বরে ফোন করলে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের মাখনা গ্রামের হুমায়ূন মিয়া নামে একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। এ সময় আমেনা আক্তারের বয়স্ক ভাতার ৩ হাজার টাকা তার নগদ অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে স্বীকার করেন। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে নম্বরটি বন্ধ করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

ভাতা তুলতে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানো ছাড়াও ব্যাংক কর্মচারীদের সামান্য পকেট খরচ দিতে হতো ভাতাভোগীদের। ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে উপকারভোগীদের ভোগান্তি ছিল নিত্য ঘটনা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে শুরু হয়েছে ভাতাভোগীদের জন্য ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)। যার মাধ্যমে ঘরে বসেই ভাতার টাকা উত্তোলন করা যাবে।

এ নিয়ম চালু করায় নেত্রকোণার মদন উপজেলায় বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। তাদের দেওয়া নম্বরে টাকা না গিয়ে চলে যাচ্ছে অজ্ঞাত নাম্বারে। আর ওই টাকা অনায়াসেই উত্তোলন করে নিচ্ছে একটি চক্র। আর এসব অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিদিনেই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ঘুরছেন। আজ বুধবার দুপুরে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক লোকজন তাদের নম্বরে ভাতার টাকা না পেয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমিয়েছেন।

এ সময় উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাগজান গ্রামের বাসিন্দা বিধবা ভাতাভোগী রহিমা খাতুন বলেন, ‘আগে ব্যাংক থেকে ভাতা নিয়েছি। এখন মোবাইল নম্বরে ভাতা যাবে বলেছে। ০১৯১৫-০৯৯৮৮২ এই নম্বরে নগদ অ্যাকাউন্ট খুলেছি কিন্তু ২ মাস ধরে কোনো টাকা আসেনি।’

মদন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯০৩ জন। তার মধ্যে বিধবা ৩ হাজার ২৮২ জন, প্রতিবন্ধী ১ হাজার ৭২৭ ও বয়স্ক ভাতাভোগী ৫ হাজার ৮৯৪ জন। তাদের প্রত্যেককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ১২০ জন ভাতাভোগীর টাকা নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ জামাল আহম্মেদ ভাতাভোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘টাকা পায়নি ১২০ জন ভাতাভোগীর তালিকা পেয়েছি। তবে নগদে যারা কাজ করছেন তাদের জালিয়াতিতে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status