|
শংকাজনক হারে বৃদ্ধি বিবাহ বিচ্ছেদ
শেখ শফিউল আলম লুলু, ঝিনাইদহ
|
![]() শংকাজনক হারে বৃদ্ধি বিবাহ বিচ্ছেদ তথ্যমতে ২০১৯ সালে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় মোট বিয়ে হয়েছে ৭ হাজার ৮’শ ৪২ জনের। এরমধ্যে তালাক হয়েছে ৩ হাজার ৬৪ জনের। তালাকের দিক থেকে ছেলেরাই এগিয়ে রয়েছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ওই বছরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তালাক হয়েছে ২৭৮ জনের। ছেলে একক ভাবে তালাক দিয়েছে ১৪৫৬ জনকে। আর মেয়ে তালাক দিয়েছে ১৩৩০ জন পুরুষকে। হিসাব মতে তালাকের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলা। এই জেলায় ২০১৯ সালে বিয়ে হয় ৭২৪টি। আর তালাকের ঘটনা ঘটে ৪২২টি। বিয়ের অর্ধেকের বেশি তালাকের ঘটনা ঘটেছে কালীগঞ্জে। জেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবাইদুর রহমান জানান, করোনাকালে জেলায় তালাকের ঘটনা নেহাতই কম নয়। বিয়ের ঘটনা বৃদ্ধি না পেলেও তালাকের ঘটনা অহরহ ঘটছে। ঝিনাইদহ পৌর কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ২০২১ সালের ৬ মাসের তথ্য দিয়ে জানান, এই সময়ে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বিয়ে হয়েছে ৩৯১টি। আর তালাকের ঘটনা ঘটেছে ১৬৯টি। প্রতি মাসে ২৮ জনের তালাক হচ্ছে। তথ্যমেত, পৌরসভার ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে ৬ মাসে একশটি বিয়ে হলেও তার অর্ধেক হয়েছে তালাক। তাছাড়া জেলা নোটারী পাবলিক কার্যালয় গুলোতেও ব্যাপক হারে তালাক হচ্ছে কিন্তু তার প্রকৃত হিসাব কারো কাছে নেই।এছাড়া জেলার ৬টি পৌরসভা, মানবাধিকার সংগঠন, মহিলা বিষয়ক অফিস, মহিলা সংস্থা ও জেলা জজ আদালতের লিগ্যাল এইড অফিসে প্রতিদিন তালাকের আবেদন জমা পড়ছে। এদিকে বিবাহিত নারী-পুরুষের বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সন্তানেরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালাকের সবচেয়ে বড় কারণ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘বনিবনা না হওয়া’। স্ত্রীর করা আবেদনে কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বামীর সন্দেহবাতিক মনোভাব, পরনারীর সঙ্গে সম্পর্ক, যৌতুক, দেশের বাইরে গিয়ে আর ফিরে না আসা, মাদকাসক্তি, ফেসবুকে আসক্তি, পুরুষত্বহীনতা, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, নৈতিকতাসহ বিভিন্ন কারণ। আর স্বামীর অবাধ্য হওয়া, শ্বশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য, পরকিয়া, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী না চলা, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি উদাসীনতা, সন্তান না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছেন স্বামী। তালাকের প্রবণতা সারা জেলার গড় হিসাবেও ক্রমশঃ বাড়ছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
