করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে কক্সবাজার সদরের ঈদগাহ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের একটি ভবনে গরুর খামার গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে অর্ধশতাধিক গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি কোরবানির পশুর হাটে নিয়ে গিয়ে কিছু গরু বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় অবস্থিত শেখ রাসেল হাউসের নিচতলা, ঢালু সিঁড়ি ও ওপর তলায় বিভিন্ন সাইজের ১৮টি গরু রয়েছে। গরু পালনের সুবিধার্থে ভবনটির খালি জায়গার চারপাশে ঘেরা দেওয়া হয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গো বর্জ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে সাইক্লোন শেল্টার কাম একাডেমিক ভবনটি শেখ রাসেল হাউস নাম দিয়ে বিভিন্ন সময় হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে— কোরবানি মৌসুমকে সামনে রেখে অধিক মুনাফার আশায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জান্নাত, শিক্ষক পূর্ণাম পাল, খণ্ডকালীন শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, আবু বক্কর, মোজাম্মেল হক ও অফিস সহকারী এম শামসুল আলম মিলে গরুর খামারটি করেছেন।
আর খামারের তদারকি ও পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন, খণ্ডকালীন শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, আবু বক্কর ও মোজাম্মেল হক।
গরুর খামার করার অভিযোগ স্বীকার করে বিদ্যায়টির প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জান্নাত যুগান্তরকে বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় একজনকে গরুগুলো রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের ভেতরে মালিক গরুগুলো নিয়ে যাবেন।
এ সময় তিনি এবং বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক গরুর খামারের সঙ্গে জড়িত নেই বলে দাবি করে বলেন, বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের আত্মীয় তার খামার ভেঙে যাওয়ায় গরুগুলো রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি নিজে এর অনুমতি দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমদুর রহমান মাদু নিজেই প্রতিবেদককে কয়েক দিনের মধ্যে গরুগুলো সরিয়ে ফেলা হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দীনকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিষয়টি অবগত করে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মিল্টন রায় যুগান্তরকে বলেন, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গরুর খামার বিষয়টি জানার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ম. সেলিম উদ্দনিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রশ্নফাঁসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চবিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জান্নাতের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া গেল বিজয় দিবসের আগে একই বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে গোবর শুকানোর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগকর্মীরা শহীদ মিনারটি পরিষ্কার করেন।