করোনায় আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী মরে পড়ে ছিলেন ঘরের মেঝেতে। স্বামীও মুমূর্ষু অবস্থায় বিছানায় ছটফট করছিলেন। কাছের আত্মীয় তেমন না থাকায় কেউ জানতেই পারেননি। স্ত্রীকে দাফন করার যেন কেউ ছিল না। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় এ দম্পতিকে এড়িয়ে চলতেন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন ইউএনও। পরে স্ত্রীকে দাফন আর স্বামীকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করান।
সোমবার সকালে চাঁদপুর শহরের ট্রাক রোড এলাকার খানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত ৫৬ বছর বয়সী শাহানাজ বেগম একই এলাকার শাহ আলম ভূঁইয়ার স্ত্রী।
জানা গেছে, করোনা পজিটিভ হয়ে কয়েকদিন ধরে বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন বৃদ্ধ এ দম্পতি। এর মধ্যে সোমবার সকালে মারা যান শাহানাজ। বিছানায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন তার স্বামী শাহ আলম। কাছে কোনো আত্মীয় না থাকায় বিষয়টি কেউই জানতে পারেননি। করোনায় আক্রান্ত পরিবার বলে প্রতিবেশীরাও এড়িয়ে চলছিলেন বাড়িটি। সোমবার সকালে এক প্রতিবেশীর ফোন পেয়ে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন চাঁদপুর সদরের ইউএনও সানজিদা শাহনাজ।
ইউএনও সানজিদা শাহনাজ জানান, সকাল ১০টার দিকে শাহ আলম নামের একজন মুঠোফোনে ঘটনাটি জানান। শাহ আলম ওই দম্পতির প্রতিবেশী। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স জোগাড়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোথাও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে দুলাল পাটোয়ারীর সহায়তায় আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে লাশটি স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এতে ইসলামী আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়তা করেন। আর করোনায় অসুস্থ শাহ আলমকে ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
প্রতিবেশী শাহ আলম বলেন, করোনায় আক্রান্ত ওই দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই ছেলে দুবাই ও মেয়ে ইতালি থাকেন। শাহ আলম ভূঁইয়া নিজেও দীর্ঘদিন দুবাই প্রবাসী ছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কোনো নিকটাত্মীয় পাশে না থাকায় ওই দম্পতির এ অবস্থা কেউ জানতে পারেননি। আমি সাহস করে তাদের ঘরে গিয়ে এ অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে সদরের ইউএনওকে খবর দেই।