কামিং হোম’ হলো না, হলো ‘রিটার্নিং রোম’। তাও এক-দুই বছর পর নয়, ৫৩টি বছর পর। ১৯৬৮ সালে সর্বশেষ ইউরো জিতেছিলো ইতালি। এরপর ২০০০ এবং ২০১২ সালেও ইউরোর ফাইনাল খেলেছিলো আজ্জুরিরা। কিন্তু ফিরতে হয়েছিলো খালি হাতে। এবার আর খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না তাদের। টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ৫৩ বছর পর ইউরোর ট্রফি জিতলো আজ্জুরিরা।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর নিজ দেশে ফিরেছে ইতালি ফুটবল দল। পৌঁছেই বিমানবন্দরে সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলো ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। রোম এবং ইতালির অন্যান্য শহরের রাস্তায় সমর্থকদের ঢল নামে৷ করোনার মধ্যেও নাচ-গান, সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন ইতালির সমর্থকরা ৷
রোববার রাতের ঘোর এখনো কাটেনি ইতালিয়ানদের। পেনাল্টি শ্যুট আউটে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য ইউরো কাপ জিতে নিয়েছেন রবার্তো মানচিনির শীষ্যরা। লড়াইটা নিঃসন্দেহে কঠিন ছিলো। কিন্তু রোববার ওয়েম্বলিতে অন্য গল্প লিখেছে ইতালি। আর সেই জয়ের ঘোর কাটার আগেই সোমবার রোমে পৌঁছে গেছে মানচিনির দল। নায়কদের বরণ করে নিতে রোমের রাস্তায় উপচে পড়ে জনতার ভিড়।
ইউরোর লম্বা সফরের পরেও কোচ রবার্তো মানচিনি, অধিনায়ক জিয়োর্জিও কিয়েল্লিনিসহ বাকি দলের মধ্যে কোনো ক্লান্তি ছিলো না। বরং দেশের হাজার হাজার মানুষের শুভেচ্ছায় তারা আরো অনুপ্রাণিত হয়ে উঠেছিলো। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলো ইতালি। বহু কাঙ্খিত ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরার আবেগটাই যে একেবারে আলাদা!
রাজার মুকুট পরেই ট্রফি হাতে সবার আগে বাস থেকে নামলেন অধিনায়ক কিয়েল্লিনি। তার আগে থেকেই অবশ্য রাস্তার ধারে সমর্থকরা ভিড় জমিয়েছিলেন। গান গাইছিলেন আনন্দে। কিয়েল্লিনি নামতেই উন্মাদনার যেন বাঁধ ভাঙলো। একে একে বাস থেকে নেমে এলেন সব খেলোয়াড়রা। সমর্থকদের সঙ্গে গলাতে মেলাতেও দেখা গেলো অনেককে।
এই বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস হবে নাই বা কেন, এর আগে সেই ১৯৬৮ সালে শেষবার ইউরো কাপ চ্যাম্পিয়ান হয়েছিলো ইতালি। ফলে ৫৩ বছর পর দ্বিতীয়বার ইউরো কাপের খেতাব জিতে আজ্জুরিরা ইতিহাস তৈরি করলো। পাশাপাশি দু’বার শিরোপা জিতে ফ্রান্সকে ছুঁয়ে ফেললো ইতালিয়ানরা।