হেফাজতের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার সন্ধানে মাঠে পুলিশ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 20 May, 2021, 12:23 PM
হেফাজতের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার সন্ধানে মাঠে পুলিশ
বৃহত্তর চট্টগ্রামে হেফাজতের তাণ্ডবে অংশ নেওয়া জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সন্ধানে এবার মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাণ্ডবের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাঠপর্যায়ের অন্তত দেড়শ’ নেতাকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হেফাজতের হয়ে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে গুজব সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানো শিবিরের গ্রুপটিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে তারা।
হেফাজতের তাণ্ডবের মামলায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরী। ২৬-২৮ মার্চ টানা তিন দিন হাটহাজারীতে তাণ্ডব সৃষ্টিতে তার বিরুদ্ধে ইন্ধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অবশ্য তার আগেই সহিংসতার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছে হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী এবং হারুন ইজাহার।
তিনজনকেই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতের সঙ্গে জামায়াত লিংকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক।
তিনি আরো বলেন, ফেসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে তারা প্রচারণা চালিয়েছে, কিছু কিছু পোস্ট কিছু কিছু উসকানিমূলক ভিডিও যেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো সত্যতা ছিল না। এগুলোর মাধ্যেমে তারা গুজব ছড়িয়ে ২৬, ২৭ ও ২৮ এই সময়কার ঘটনাগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। নাশকতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। এগুলোর বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হেফাজত প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকেই হেফাজতের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য গড়ে উঠে। এরপর তারা নানা ইস্যুতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা নেয়।
এরই অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি না থাকলেও জামায়াত-শিবিরের ইন্ধনেই প্রথমে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেয় শিবিরের কর্মীরা বলেন জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
এদিকে হেফাজতের নামে চালানো ফেসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলগুলোর নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শিবির কর্মীদের হাতে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রফেসর ড. জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ফেসবুক ও ইউটিউবে যে অপ্রপ্রচার চালানো হচ্ছে, নানা রকম উসকানি দেয়া হচ্ছে সেটা কিন্তু হেফাজতের ছাত্র বা শিক্ষার্থীরা যারা আছে সাধারণত তাদের আধুনিক ফোন ব্যবহার করাই আইনত নিষেধ। তাহলে যারা এটা দিচ্ছে সেই সমস্ত চ্যানেলগুলো আমরা সার্চ করি তাহলে দেখা যাবে জামায়াতে ইসলামী তার অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য সংগঠন এগুলো করছে।
৩ দিনের সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত ১০টি মামলায় পুলিশ জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা ছাড়াও হেফাজতের ৩০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।