ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৫ জুন ২০২৬ ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
একটু সময় পেলে বাবাকে বাঁচাতে পারতাম!
নতুুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 17 March, 2021, 7:00 PM

একটু সময় পেলে বাবাকে বাঁচাতে পারতাম!

একটু সময় পেলে বাবাকে বাঁচাতে পারতাম!

চোখ বয়ে পড়ছে জল। করছিলেন করুন বিলাপ । যদি একটু সময় থাকত, তাহলে বাবাকে বাঁচাতে পারতাম। ওরা আমার বাবাকে মেরে ফেলছে । কিন্তু ওরা আমাকে ঢুকতে দিল না। এভাবে কান্নায় করতে করতে বলেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কোভিড আইসিইউতে মারা যাওয়া কাজী গোলাম মোস্তাফার মেয়ে কাজী রাবু।

বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। তৃতীয় তলায় ছিল করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ। আইসিইউতে আগুন লাগার পর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (৪৮), কাজী গোলাম মোস্তফা (৬৬) ও কিশোর চন্দ্র রায় (৫৮)।

হাসপাতালে কাজী গোলাম মোস্তফার মেয়ে কাজী রাবু কান্না করে বলেন, ‘আমার বাবা কোভিড আক্রান্ত হয়ে ১১ তারিখে ভর্তি হয় । ওইদিনই তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সকালে আগুন লাগার সময় আমি হাসপাতালেই ছিলাম। অনেকেই যার যার রোগী নিয়ে বের হয়ে যায়। কিন্তু আমার বাবাই শুধু বের হতে পারেনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আমার বাবাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। বাবাকে সিসিইউতে নিলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। সবাই ভেতরে ঢুকে যার যার রোগী বের করে নিয়ে আসলেও আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাকে ঢুকতে দিলে বাবাকে আমি নিজেই নিয়ে আসতাম। কেন তারা আমাকে ঢুকতে দিল না। তারাই আমার বাবাকে মেরে ফেলছে।’

গোলাম মোস্তফার শ্যালক জামান বলেন, ‘আমার ভাগনি এখানে সশরীরে হাজির ছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সে আইসিইউতে ছুটে যায়। চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় কিছুই দেখা যায়নি। আগুনে অক্সিজেনের লাইন বন্ধ হয়ে যায়। যার যার স্বজন আইসিইউতে ছিল তারা নিজেরাই তাদের রোগীকে বের করেছে। এখানে ডিউটিতে যারা ছিল তারা আমার ভাগনিকে ঢুকতে দেয়নি। ৫-১০ মিনিট সময় পেলে আমার দুলাভাইকে বের করে আনতে পারত। এদের কারণেই আগুন লাগে, আবার এরাই মানুষ মেরে ফেলে। আসলে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে এসে, বের হতে হলো লাশ হয়ে।’

মৃত ব্যক্তির ছেলে কাজী মারুফ বলেন, ‘আপনারাই বলেন ১৩ জন রোগীকে বের করা হলো, শুধু আমার বাবাকেই বের করা গেল না। বের তারা ঠিকই করেছেন, কিন্তু মৃত অবস্থায়। আমার বোনকে তারা ঢুকতে দিলে সে বাবাকে বের করতে পারত। তারা ইচ্ছে করেই আমার বোনকে ঢুকতে দেয়নি।’

বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দফতর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. নাজমুল হক বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ আইসিইউতে আগুন লাগার পর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের কারো মৃত্যুই আগুনে পুড়ে হয়নি।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status